শেখ সবুজ আহমেদ, ঢাকা: আব্দুল বারী। দৈনিক দেশতথ্য ও জাতীয় দেশতথ্য বাংলা পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রকাশক। তিনি কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার কৃতি সন্তান। আজ তার শুভ জন্মদিন।
স্বাধীনতা পূর্ববর্তী ও পরবর্তী কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার সাংবাদিকতার ইতিহাস খুব একটা গৌরব উজ্জল নয়। সাংবাদিকতার মাধ্যমে এ উপজেলার অন্যায় অবিচারের বিরুদ্ধে নেহায়েতই হাতে গোনা যারা কলম হাতে তুলে নিয়েছিলেন তাঁরা তাদের অভিষ্ট লক্ষে পৌঁছার আগেই জীবন জীবিকার প্রয়োজনে এ পেশা বদলে অন্য পেশার সাথে সম্পৃক্ত হন। ফলে দীর্ঘসময় মিরপুর উপজেলার নিগৃত-নিপিড়িত জনসাধারন সাংবাদিকদের কাছ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগীতা বঞ্চিত হয়ে অন্যায়-অবিচারের মধ্যে নিপতিত থেকেছে।
উপজেলার সাংবাদিকতা শুন্য এ সময় অনেকটা ধুমকেতুর মতো আবির্ভাব ঘটে এক টগবগে যুবকের। যার নাম আব্দুল বারী। এলাকায় যার পরিচয় সাংবাদিক বারী মোল্লা হিসাবে। পূর্বসূরীদের মতো আব্দুল বারীও সাংবাদিকতাকে সৌখিন পেশা হিসাবে গ্রহন করেন।
ছোট বেলা থেকেই তিনি অসাধ্যকে সাধন করার চ্যালেঞ্জ হিসাবে গ্রহন করতে ভালবাসতেন। একসময় বাসের ষ্টাটার পাশাপাশি সাংবাদিকতা করতেন উপজেলার নীমতলার শাহ আলম। সাংবাদিক শাহ আলমকে দেখেই আব্দুল বারীর সাংবাদিকতায় আসার সুচনা।
সৌখিন সাংবাদিকতা এক পর্যায়ে আব্দুল বারীর নেশায় পরিণত হয়। দারিদ্রের সাথে সংগ্রাম করে বেড়ে ওঠা আব্দুল বারীর পরিবারে লেখাপড়া শেখাটা ছিল অনেকটা বিলাসিতার মতো। তা সত্বেও উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের অদম্য ইচ্ছা শক্তির কারনে দারিদ্রতা ঘুচানোর সংগ্রামের পাশাপাশি লেখাপড়া চালিয়ে গেছেন।
সাংবাদিক আব্দুল বারী কুষ্টিয়ার মিরপুর পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ডের মৃত আবেদ আলী মোল্লার ছেলে।
কুষ্টিয়ার মিরপুর পাইলট হাইস্কুল থেকে ১৯৭৯ সালে এস এস সি পাশ করে ভেড়ামারা কলেজে এইচ এস সি ও ডিগ্রী পাশ করেন। কুষ্টিয়া ‘ল’ কলেজ থেকে ‘ল’ পাশ করেন। ভেড়ামারা কলেজে এইচ এস সিতে ভর্তি হবার পর থেকেই জাসদ ছাত্রলীগ রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত হন। অল্পদিনেই ভেড়ামারা কলেজে তুখোড় ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। ‘ল’ পাশ করে আইন পেশায় নিজেকে সম্পৃক্ত না করে সে নেশা আব্দুল বারীকে সাংবাদিকতার মহান পেশা হিসাবে গ্রহন করতে বাধ্য করে। যার কারনে অল্পদিনেই সাংবাদিকতার মাধ্যমে আব্দুল বারী চলে আসেন পাদ-প্রদীপের নীচে।
৮০ দশকের শুরুতেই আব্দুল বারী কুষ্টিয়া থেকে ওয়ালীউল বারী চৌধুরী সম্পাদিত সাপ্তাহিক ‘ইস্পাত’ পত্রিকার মাধ্যমে সাংবাদিকতা শুরু করেন। পরে আব্দুর রশীদ চৌধুরী সম্পাদিত দৈনিক ‘বাংলাদেশ বার্তা। একই সাথে আব্দুল বারী ঢাকা থেকে প্রকাশিত তৎসময়ের বহুল আলোচিত সাপ্তাহিক ‘চিত্রবাংলা’ ও ‘সুগন্ধা’ পত্রিকায় লিখতেন। ১৯৮২ সালে ৭ জন সাংবাদিক নিয়ে মিরপুর প্রেসক্লাব’র আত্মপ্রকাশ ঘটে। প্রতিষ্ঠাকালীন মিরপুর প্রেসক্লাব’র সভাপতি ছিলেন মোহাম্মদ মোস্তফা, সেক্রেটারী ছিলেন আব্দুল বারী। ৯৪/৯৫ সালের দিকে কুষ্টিয়া থেকে এম এ শামীম আরজু সম্পাদিত ‘দৈনিক সুত্রপাত’ পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হন। (৯৮-২০০৩) সাল পর্যন্ত তিনি গড়াই নদী খনন (জি আর সি)’র প্রশাসনিক কর্মকর্তা (পিআরও) হিসাবে কর্মরত ছিলেন। ২০০২ সালে ‘দৈনিক আজকের আলো’ পত্রিকার উপদেষ্টা সম্পাদক হন।
আব্দুল বারী যথাযথ নিয়ম মেনে ৯৭/৯৮ সালে দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্দ্যোগ নিলে তৎকালীন ক্ষমতাসীনদের বাধার মুখে থমকে যায় তাঁর দৈনিক পত্রিকা প্রকাশের উদ্দ্যোগ। ২০০৩ সালের শুরুর দিকে তিনি প্রকাশক ও সম্পাদক হিসাবে প্রকাশ করেন ‘দৈনিক দেশতথ্য’ পত্রিকা।
২০০৪ সালে কুষ্টিয়া সংবাদ পত্র মালিক সমিতি গঠন হলে ‘দৈনিক বাংলাদেশ বার্তা’র আব্দুর রশীদ চৌধুরী সভাপতি ও আব্দুল বারী সাধারন সম্পাদক নির্বাচিন হন।
২০০৫ সালে দেশের বহুল প্রচারীত প্রাচীন পত্রিকা ‘দৈনিক ইত্তেফাক’ এর সম্পাদকের এ্যাসিসট্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন। একই সাথে তিনি ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘দৈনিক ভোরের ডাক’ পত্রিকার পার্টটাইম সহকারী সম্পাদক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন ও অনলাইন মিডিয়া ‘ডিটি বাংলা.কম’এর সম্পাদক।
এছাড়াও তিনি ‘দৈনিক ইত্তেফাক’র যুগ্ম-বার্তা সম্পাদক ও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসাবে একই পত্রিকার মফস্বল সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমানে তিনি দৈনিক দেশতথ্য ও জাতীয় দেশতথ্য বাংলা পত্রিকার সম্পাদক এবং প্রকাশক।
Leave a Reply