আলমগীর অরণ্য,ঝিনাইদহ:
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল ও ঝিনাইদহ-১ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাড. মো. আসাদুজ্জামান।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে মন্ত্রী হিসেবে শপথ পাঠ করার পর স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন। শৈলকুপা উপজেলা শহরের চার রাস্তার মোড়ে গিয়ে নেতাকর্মীরা মিষ্টি মুখ করেন, সেই সাথে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের মাঝে মিষ্টি বিতরণ করেন। সেসময় নেতাকর্মীরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অ্যাড. আসাদুজ্জামান বিগত দিনের মতো ভূমিকা রাখবেন বলে আশা প্রকাশ করেন। আসাদুজ্জামান ঝিনাইদহ-১ আসন থেকে প্রথমবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর মন্ত্রীর দ্বায়িত্ব পেলেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মো. আসাদুজ্জামান ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৯৮ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী আবু সালেহ মো. মতিয়ার রহমান পেয়েছেন ৫৫ হাজার ৫৭৭ ভোট।
মো. আসাদুজ্জামান ১৯৭১ সালের জানুয়ারি মাসে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা থানার অন্তর্গত বারইপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম শেখ মো. ইসরাইল হোসেন এবং মায়ের নাম বেগম রোকেয়া। আসাদুজ্জামানের শিক্ষাজীবন শুরু হয় নিজ জেলা ঝিনাইদহে। তিনি ১৯৮৭ সালে গাড়াগঞ্জ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮৯ সালে শৈলকুপা কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। ১৯৮৯ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে এলএলবি (সম্মান) ও এলএলএম ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র থাকাকালে ১৯৮৯-১৯৯৪ সালে জাসদ ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ১৯৯৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। পরে ১৯৯৪ সালে তিনি জাসদ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রচার সম্পাদক হন।
মো. আসাদুজ্জামান ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিল কর্তৃক তালিকাভুক্ত হন এবং ১৯৯৬ সালে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে আইনজীবী হিসেবে প্র্যাকটিসের অনুমতি লাভ করেন। তিনি ১৯৯৭ সালে সুপ্রিমকোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। ২০০৫ সালে তিনি আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন।
আইনজীবী হিসেবে তিনি কর্মজীবনের শুরুতে সুপ্রিমকোর্টের তৎকালীন আইনজীবী ও পরবর্তীতে বিচারপতি নিজামুল হক নাসিমের সঙ্গে কাজ করেছেন। ১৯৯৮ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথিতযশা আইনজীবী ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক আহমেদের জুনিয়র হিসেবে যোগদান করেন এবং দীর্ঘদিনের সাহচর্যে ব্যারিস্টার সৈয়দ ইশতিয়াক প্রতিষ্ঠিত ল চেম্বারের একজন পার্টনার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। অ্যাড. আসাদুজ্জামান বিএনপির রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়ে কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক ও দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি ২০১৮ সালে বিএনপির টিকিটে প্রথমবার ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ৮ আগস্ট বাংলাদেশের অ্যাটর্নী জেনারেল হিসেবে নিযুক্ত হন। ২৮ জানুয়ারি অ্যাটর্নী জেনারেল পদ থেকে পদত্যাগ করে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন।
তিনি কর্মজীবনের বিভিন্ন উচ্চ আদালতে গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অংশগ্রহণ ও বিভিন্ন জটিল আইনি সমস্যার সমাধান করতে সক্ষম হন।
Leave a Reply