নিজস্ব প্রতিবেদক:
মেরামতের বদলে সরাসরি কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি
চাঁদপুর: চাঁদপুর জেলায় প্রায় ২১ কোটি টাকা ব্যয়ে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পে গুরুতর অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কুমিল্লা-লালমাই-চাঁদপুর-লক্ষ্মীপুর-বেগমগঞ্জ (আর-১৪০) সড়কের বাকিলা বাজার থেকে বাগাদি চৌরাস্তা পর্যন্ত ১৬.১৭৮ কিলোমিটার অংশে এই রক্ষণাবেক্ষণ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে এম/এস শহীদ ব্রাদার্স-এম/এস ওকে এন্টারপ্রাইজ জেভি, যার মেয়াদ ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজটি বাস্তবায়ন করছেন অভিজ্ঞতা ও নিজস্ব যন্ত্রপাতিবিহীন স্থানীয় ঠিকাদার ফারুখ মিদ্দা, যিনি মেরামতের কাজ সম্পূর্ণ বাদ দিয়ে সরাসরি কার্পেটিংয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
প্রকল্পের আওতায় গর্ত মেরামত, ড্রেন নির্মাণ ও কার্পেটিংয়ের কাজ নির্ধারিত থাকলেও, অভিযোগকারীদের মতে, গুরুত্বপূর্ণ মেরামতের কাজগুলো কার্যত উপেক্ষিত। শুধুমাত্র বাকিলা ও ওয়্যারলেস বাজারে ১১২ মিটার অংশে নিম্নমানের পাথর ও বালু মিশ্রিত সামগ্রী দিয়ে নামমাত্র ৩ ইঞ্চি পুরুত্বের কাজ সম্পন্ন হয়েছে, যা নির্ধারিত ৬ ইঞ্চি পুরুত্বের ২ লেয়ার রিপেয়ার কাজের চেয়ে অনেক কম। অভিযোগ উঠেছে, এই অনিয়মের সঙ্গে সওজের সংশ্লিষ্ট উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান (চাঁদপুর) এবং সহকারী প্রকৌশলী মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন (কুমিল্লা জোন, অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী, চাঁদপুর) সরাসরি জড়িত। লোকমুখে শোনা যায়, এই কর্মকর্তারা ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলীকে একটি গাড়িও উপহার দেওয়া হয়েছে।
অধিকন্তু, ঠিকাদার তার নিজস্ব বা লিজকৃত কোনো যন্ত্রপাতি ব্যবহার না করে সওজের যান্ত্রিক বিভাগের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী প্রকৌশলীর যোগসাজশে গত চার মাস ধরে সরকারি রোলার, পেলোডার সহ ৫টি গাড়ি কোনো প্রকার রাজস্ব ছাড়া হরহামেশা ব্যবহার করছেন। সাইটে ল্যাবরেটরি বা সার্ভে ইকুইপমেন্টও স্থাপন করা হয়নি, যা কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, মেরামত ছাড়া সরাসরি কার্পেটিং করলে সড়কটি অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষতিগ্রস্ত হবে, যা সরকারি তহবিলের চরম অপচয়। নির্ধারিত সময়ে অবশিষ্ট কাজ শেষ করা অসম্ভব জেনেও ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অসম্পূর্ণ কাজের বিল ভাগ-ভাটোয়ারা করে তুলে নেওয়ার পাঁয়তারা করছেন বলে অভিযোগ।
এ বিষয়ে চাঁদপুর সড়ক বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মোস্তাফিজুর রহমান ইনভেস্টিগেশন নিউজ কে বলেন, এই প্রকল্পে কোন দুর্নীতি বা অনিয়ম হয়নি এ সমস্ত তথ্যভিত্তিহীন। তবে ঠিকাদারের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয়রা এই সরকারি অর্থ লুটপাটের পায়তারার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত কর্মকর্তা-ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply