1. shobujsk1990@gmail.com : Sobuj :
April 16, 2026, 12:18 pm
শিরোনাম:
একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের পর বন্ধ সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর টোল,পুনরায় চালুর ইঙ্গিত হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভ এর কমিটি ঘোষণা গোপালগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকা ট্রেন চালুর দাবি কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় কাশিয়ানীতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা লাভলী বেগম, থানায় অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী কামরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের টুঙ্গিপাড়ায় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক ভোগান্তি শীর্ষে স্বাধীনতা দিবস ও কিছু কথা টুঙ্গিপাড়ায় বিষপানের ১১ দিন পর গৃহবধূর মৃত্যু

সমাজসেবার আড়ালে ভয়ংকর চাঁদাবাজির অভিযোগ জেলা বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে

  • আপডেটের সময়: Thursday, August 21, 2025
  • 436 Time View

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি :
বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক রাজধানী খ্যাত কুষ্টিয়া। এই কুষ্টিয়া এখন অশান্ত জনপদ হিসেবে দেশবাসীর কাছে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ জাতীয় গণমাধ্যমগুলোতেও উঠে আসছে চাঁদাবাজি,সন্ত্রাসীসহ একের পর এক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য। আর এর নেপথ্যের নায়ক হিসাবে অভিযোগ উঠেছে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের দিকে।

একসময়ের ছাত্র-শিবিরের রাজনীতি থেকে উঠে আসা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বিএনপি’র রাজনীতিতে তার উত্থান কেন্দ্রীয় এক নেতার হাত ধরে। এবং গত বছরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব পদের দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে তার বেপরোয়া চলাচল শুরু হয়। জেলার সমস্ত বালু মহল থেকে নিয়মিত চাঁদা উত্তোলন, সরকারি ঠিকাদারি কাজে টেন্ডার বাণিজ্য, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কমিটি বাণিজ্য ও নিয়োগ-বাণিজ্য সহ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র অন্তর্গত বিভিন্ন কমিটি বাণিজ্য একাধিক অভিযোগে অভিযুক্ত ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।

ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগে জানা যায়, “কুষ্টিয়া গ্রিন সিটি” সামাজিক কর্মকাণ্ডের নামে শহরের ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ডনেট এর নামে মোটা অংকের অর্থ নেওয়া হয় এবং কেউ দিতে অস্বীকার হলে তার ওপর রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগ ও সামাজিকভাবে তাকে হেনস্তা করা হয়। এ বিষয়ে কেউ মুখ না খুললেও নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গার্মেন্টস ব্যবসায়িক জানান,ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে ২৫ লক্ষ টাকা দিয়েছে তিনি। এবং বাংলাদেশের স্বনামধন্য শিল্প প্রতিষ্ঠান বিআরবি গ্রুপের কাছ থেকে এককালীন মোটা অংকের টাকা নিলেও প্রত্যেক মাসের ১০ তারিখের মধ্যে নির্দিষ্ট পরিমাণের একটি অর্থ মাসোহারা নিয়ে থাকে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।

অনুসন্ধানে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এর বিরুদ্ধে আরো ভয়াবহ তথ্য পাওয়া যায়, জেলার বিভিন্ন চরমপন্থী সংগঠনকে নিয়ন্ত্রণ করে তিনি এবং এদেরকে দিয়ে জেলার বিভিন্ন বালু মহলে সশস্ত্র অবস্থায় হামলা চালানো হয় আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রদর্শনের জন্য। যা বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

স্থানীয় বিএনপি’র নেতা কর্মীরা বলে, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিকে কলঙ্কিত করার মিশনে নেমেছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। কারণ আমরা অতীতে দেখেছি ছাত্রলীগের এক সভাপতির বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে সংগঠনটি বিতর্কিত হয় এবং পরবর্তীতে জানা যায় ছাত্রলীগের সভাপতি আসলে সেই ছেলেটি ছাত্র শিবির কর্মী আর এটিই ছিল তার মিশন ছাত্রলীগ’কে কলঙ্কিত করার। অতএব আমরা ভাবতে পারি ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার একসময় ছাত্রশিবির কর্মী ছিল এবং তার পরিবার জামাত ঘরোনা রাজনীতিতে বিশ্বাসী, তাহলে কি বিএনপি কলঙ্কিত করার মিশনে নেমেছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার সেই ছাত্রলীগের সভাপতি শিবির কর্মীর মত। তিনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র অন্তর্গত সকল কমিটি তে বাণিজ্য করছে এবং আওয়ামী লীগের পদ ধারী নেতাকর্মীদেরকে টাকার বিনিময়ে বিএনপিতে দায়িত্বশীল পদে বসাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের এক নিকটবর্তী আত্মীয় বলেন, গত বছরের ৫-ই আগস্ট এর পর থেকে তার বিভিন্ন শুভাকাঙ্ক্ষী ও আত্মীয়দের ব্যাংক একাউন্টে অস্বাভাবিক লেনদেন লক্ষ করা যাচ্ছে। এবং তার বিভিন্ন আত্মীয় ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা জামাত ও আওয়ামী লীগ ঘরোনার হলেও তাদেরকে বিএনপিতে গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হচ্ছে।

অনুসন্ধানের স্বার্থে কুষ্টিয়া শহরের বিভিন্ন ব্যাংকে যোগাযোগ করলে জানা যায়, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের নিজের একাউন্টে তেমন একটা লেনদেন না করলেও তার বিভিন্ন আত্মীয়-স্বজনদের একাউন্টে লেনদেনের সময় তাকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায় এবং সে সমস্ত ব্যাংক একাউন্টে ৮ মাস যাবত অস্বাভাবিকভাবে লেনদেন শুরু হয়েছে যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এর বিষয়ে কুষ্টিয়ার এক প্রবীন রাজনৈতিক নেতা আলহাজ্ব নূরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক বলেন, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের পদ ধারী নেতাকর্মীদেরকে বিএনপিতে বিভিন্ন পদে বসাচ্ছে। যা রাজনীতিতে এক সময় অনেক বড় বিপদ ডেকে আনবে। এবং বিভিন্ন উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড ও সরকারি বিভিন্ন বরাদ্দের নামে রাজনৈতিক নেতা ও বড় বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করছেন নিয়মিত। আর এতে প্রমাণ হচ্ছে আওয়ামী লীগের সময়ের স্বৈরাচার ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এর উপর ভর করেছে।

এ সমস্ত অভিযোগের বিষয়ে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগাযোগে এ ব্যর্থ হলে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির আহবায়ক কুতুবুদ্দিন আহমেদ বলেন, তার এমন কর্মকাণ্ডে লজ্জিত আমরা এবং এ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত চলমান এবং পরবর্তীতে আপনাদেরকে সকল তথ্য জানানো হবে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2026 S.S Media Limited
Theme Customized By Unkwon