পংকজ দে,গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ কর্তৃক নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়েছে।আজ ৫ই ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) সকাল দশটায় বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের ও দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দাবী আদায়ের পক্ষের সরকারি কর্মচারী ও কর্মকর্তারা উপজেলা চত্বরে জড়ো হন।
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের সুস্পষ্ট প্রজ্ঞাপন জারি না করে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার উদ্যোগকে ‘অযৌক্তিক ও বৈষম্যমূলক’ আখ্যা দিয়ে তারা দাবি জানান—আগে পে-স্কেল সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন, পরে নির্বাচন।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, সরকারি কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ও শিক্ষা ব্যয়ের চাপ বহন করছেন। অথচ পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। এতে কর্মচারীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধন শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল উপজেলা পরিষদ চত্বরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলে ‘পে-স্কেল চাই, দিতে হবে’, ‘বৈষম্য মানি না, মানব না’—এমন নানা স্লোগান দেওয়া হয়।
সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ কাশিয়ানী উপজেলা শাখার সমন্বয়ক নোওয়াব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক আনিসুজ্জামান তালুকদার বলেন, “রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম স্তম্ভ সরকারি কর্মচারীরা। অথচ তাদের ন্যায্য দাবিগুলো বছরের পর বছর ঝুলে থাকে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেই।”
কাশিয়ানী উপজেলার স্বাস্থ্য, শিক্ষা, ভূমি, সমাজসেবা, প্রাণিসম্পদসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মচারীরা দীর্ঘদিন ধরে একই বেতন কাঠামোতে কাজ করছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য না থাকায় অনেক কর্মচারী পারিবারিক ব্যয় নির্বাহে হিমশিম খাচ্ছেন।
কর্মসূচি থেকে ঘোষণা দেওয়া হয়, দাবি আদায় না হলে আগামী দিনে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের মাধ্যমে কর্মচারীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারও করেন তারা।
Leave a Reply