1. shobujsk1990@gmail.com : Sobuj :
July 28, 2026, 3:52 am
শিরোনাম:
বিএনপির আদর্শে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস (বাংলাদেশ)’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন গোপালগঞ্জের গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে: মিজানুর রহমান বিটু খোকসার রাজনীতিতে নতুন মুখ কে এই সালেহীন খান “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন আরিফুল ইসলাম নয়ন “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন তারিকুল ইসলাম ​অবক্ষয়ের মুখে সমাজ: বাল্যবিবাহ,মাদক ও ধর্ষণের কবলে পুরো জাতি পৌর মেয়র নয় সবার বন্ধু হতে চাই “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন নাজমুস সালেহীন খান “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা মো: সায়েদুজ্জামান দৌলতপুরের ফিলিপনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ: একাধিক মামলার আসামি মাসুদকে ঘিরে এলাকাবাসীর উদ্বেগ

আওরঙ্গজেবের শেষ উত্তরসূরি সুলতানা বেগম: কোথায় বাস করেন এবং কীভাবে দিন কাটান?

  • আপডেটের সময়: Wednesday, October 1, 2025
  • 646 Time View

ইনভেস্টিগেশন ডেক্স:
ভারতের শেষ মুঘল সম্রাট বাহাদুর শাহ জাফর-এর প্রকৃত উত্তরসূরি দাবি করা সুলতানা বেগম আজ হাওড়ার একটি বস্তিতে দারিদ্র্যতায় জীবন কাটাচ্ছেন। তিনি মূলত কেন্দ্রীয় সরকারের ৬,০০০ টাকার পেনশনেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। আদালতে, এমনকি ভারতের সর্বোচ্চ আদালতেও তাঁর দাবি—লাল কেল্লার মালিকানা সংক্রান্ত—প্রযুক্তিগত কারণে খারিজ করা হয়েছে এবং এটিকে “ভ্রান্ত” বলা হয়েছে।
ভারতীয় ইতিহাসে বহু সাম্রাজ্য উত্থান-পতন করেছে। তবে তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ আজও দেখা যায়—কিছু প্রাচীন স্মৃতিস্তম্ভে, কিছু উত্তরসূরীর মধ্যে। রাজস্থানের রাজবংশের উত্তরসূরীরা আজও পরিচিত হলেও, মুঘল সম্রাটদের উত্তরসূরীরা কোথায় গিয়েছিলেন এবং কী অবস্থায় আছেন? সুলতানা বেগম সেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছেন।

সুলতানা বেগমের জীবন কেমন?

সুলতানা বেগম ছিলেন মিরজা বেদার বুখ্ত-এর বিধবা, যিনি বলা হয় বাহাদুর শাহ জাফরের পৌত্রপৌত্র ছিলেন। ১৯৮০ সালে তার স্বামীর মৃত্যুর পর, সুলতানা হাওড়ায় চলে আসেন। বর্তমানে তিনি একটি দুই-ঘর বিশিষ্ট কুঁড়েঘরে বসবাস করছেন। তাঁর বয়স প্রায় ৬০ বছর। ভারতীয় এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনের অনুযায়ী, তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের মাসিক ৬,০০০ টাকার পেনশনে জীবন নির্বাহ করছেন। এই পেনশন তাঁর স্বামীর অনুমোদিত উত্তরাধিকারীর হিসেবে দেওয়া হয়েছিল।
তিনি প্রতিবেশীদের সঙ্গে রান্নাঘর ব্যবহার করেন, পাবলিক নল ব্যবহার করে হাতমুখ ধুয়ে থাকেন এবং কন্যা মধু বেগম-এর সঙ্গে থাকেন। তিনি ছোটখাটো ব্যবসা করেছেন—চা স্টল পরিচালনা এবং মহিলাদের পোশাক বিক্রি—কিন্তু এই আয় তাদের অবস্থার উন্নতি করতে যথেষ্ট ছিল না।

বাহাদুর শাহ জাফরের সঙ্গে সম্পর্ক

সুলতানা বেগমের শ্বশুরের শ্বশুর ছিলেন বাহাদুর শাহ জাফর, মুঘল সাম্রাজ্যের শেষ সম্রাট। তিনি ১৮৩৭ সালে সিংহাসনে আসেন, তখন ব্রিটিশ শাসনের কারণে সাম্রাজ্য তার প্রাচীন শক্তির অনেকটা হারিয়েছিল। ১৮৫৭ সালের ভারতীয় বিদ্রোহের সময় জাফর প্রতীকী নেতা ছিলেন। বিদ্রোহ দমন হওয়ার পর, তিনি রংগুনে নির্বাসিত হন, যেখানে ১৮৬২ সালে মৃত্যুবরণ করেন।

লাল কেল্লার জন্য আইনি দাবি
সুলতানা বেগম দীর্ঘদিন ধরে কেবল তাঁর উত্তরাধিকারী হিসেবে স্বীকৃতি চান না, বরং বাহাদুর শাহ জাফরের সম্পত্তি, বিশেষ করে দিল্লির লাল কেল্লা-র অধিকার দাবি করেছেন। এনডিটিভি-র প্রতিবেদনের অনুযায়ী, ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট তাঁর দাবি খারিজ করে “ভ্রান্ত” বলে উল্লেখ করেছে। বিচারক একবার প্রশ্ন করেছিলেন: “শুধু লাল কেল্লা কেন? ফতেহপুর সিকরি কেন নয়?”
সুলতানা বেগমের জবাব ছিল: “আমরা লাল কেল্লা বা ফতেহপুর সিকরি চাইনি। আমরা শুধু বলেছি, রাজারা ও সম্রাটদের প্রাসাদ এবং ঘরবাড়ি ছিল। তাহলে বাহাদুর শাহ জাফরের বাড়ি কোথায়? আমরা কেবল তার বৈধ আবাসের দাবিই করেছি।” তিনি আরও বলেন: “যা একমাত্র আশা ছিল সুপ্রিম কোর্টে, সেটাও শেষ হয়ে গেছে। মনে হচ্ছে মাটি আমাদের পায়ের নিচ থেকে সরে গেছে। এখন আমার শেষ আশা মোদি সরকারের ওপর।

পেনশন যথেষ্ট নয়,
যদিও তাঁর স্বামী বাহাদুর শাহ জাফর দ্বিতীয়-এর স্বীকৃত শেষ পুরুষ উত্তরসূরি ছিলেন, তবুও আর্থিক সাহায্য সীমিত ছিল। ব্রিটিশ শাসনকালে এবং পরে ভারতীয় সরকারের পক্ষ থেকে পেনশন মেলে, কিন্তু তা কেবলমাত্র মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারত। ২০২১ সালে দিল্লি হাইকোর্টও তাঁর লাল কেল্লা দাবি নামঞ্জুর করে।

সুলতানা বেগমের জীবন প্রমাণ করে—রাজপরিবারের উত্তরসূরী হলেও রাজকীয় মর্যাদা আর সমৃদ্ধি নেই, বরং দারিদ্র্য এবং আইনি লড়াই-ই এখন তাদের বাস্তবতা।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2026 S.S Media Limited
Theme Customized By Unkwon