নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
গত বছরের ৫-ই আগস্টে বাংলাদেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হলে মূলধারা রাজনৈতিক দলগুলো দলীয় কর্মকাণ্ডে সোচ্চার হয়ে ওঠে কারণ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘ ১৬ বছর ক্ষমতায় থাকায় মূল ধারার রাজনৈতিক দলগুলোর উপর অত্যাচার নির্যাতন চালিয়ে তাদেরকে এক কথায় সমস্ত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে বিরত রাখার জন্য যা যা করণীয় তা সবগুলোই করেছে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। এদের মধ্যে অন্যতম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। এই দলটির উপর নির্যাতনের সীমা এতটাই ছিল যে দলের তৃণমূল থেকে শুরু করে কেন্দ্র পর্যন্ত সমস্ত নেতাকর্মীদের নামে একাধিক মামলা-হামলা সহ অনেক নির্যাতন হয়েছে। কিন্তু তবুও এই দলটিকে পিছু হটাতে পারেনি তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার অবশেষে ২০২৪ সালের ৫- আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় তৎকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সহ মন্ত্রী পরিষদের সকলে’ই। শুধু মন্ত্রী পরিষদই নয় আওয়ামী লীগের উপজেলা পর্যায়ের সভাপতি সাধারণ সম্পাদকসহ কেন্দ্রীয় কমিটির সমস্ত দুর্নীতিবাজ নেতাকর্মীরা আত্মগোপন ও দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) আবারো স্বাধীনভাবে গণতান্ত্রিক চর্চা ও মানুষের কল্যাণে রাজনীতির লক্ষ্যে তাদের দলীয় কর্মকাণ্ড এগিয়ে নেয়ার জন্য এবং আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা বাংলাদেশে নতুনদের নেতৃত্বের লক্ষে জেলা, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ে মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি বাতিল করে নতুন কমিটি বা আহবায়ক কমিটি’র অনুমোদন দেয়।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র কুষ্টিয়া জেলা আহবায়ক কমিটি’র আহ্বায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। এই কমিটি প্রকাশের পর কুষ্টিয়া জেলার সর্বস্তরের বিএনপি’র সাধারণ নেতাকর্মীরা আন্দোলন সংগ্রাম গড়ে তোলে কারণ ত্যাগীদের কে মূল্যায়ন না করে হাইব্রিড খ্যাত ব্যক্তিদেরকে দলের শীর্ষ পদে রাখায়। জেলার এই দুই শীর্ষ নেতা জনপ্রিয়তার তলানিতে থাকলেও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের অনিয়ম ও দুর্নীতির কর্মকান্ড দেখে হতাশ জেলার ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তারা অভিযোগ তুলেছে, জেলা কমিটির পদ বাগিয়ে নেওয়ার পর থেকেই বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। তিনি তার স্বেচ্ছাচারিতা, অর্থের বিনিময়ে দলের পদ দেওয়া ও স্বজন প্রীতির মধ্য দিয়ে কুষ্টিয়ার প্রত্যেকটা উপজেলা,ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডে কমিটি গঠন করেছে। যার ফলে দীর্ঘ বছর আন্দোলন সংগ্রাম করা ত্যাগী কর্মীরা পদ বঞ্চিত হয়েছে। এতে জেলার রাজনীতিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
নেতাকর্মীরা আরো বলেন, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসন করার জন্য অর্থের বিনিময়ে স্বৈরাচারের দোসরদেরকে বিএনপি’র পদে বসাচ্ছে। তিনি অর্থ বাদে কোন কমিটি এ পর্যন্ত দেয়নি এ কারণে বিএনপি’র অনেকেই উপায় খুঁজে না পেয়ে নিজেদের অস্তিত্ব রাখতে বাধ্য হয়ে জাকির সরকারকে টাকা দিয়ে কমিটির পদ পদবী নেয়। এর উল্লেখযোগ্য প্রমাণ খোকসা উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব অধ্যক্ষ আনিসুজ্জামান স্বপন (আনিস) ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব পদ’টি নেয় এবং কুমারখালী উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও প্রবীণ বিএনপি নেতা আনসার প্রমাণিক তিনিও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে নিজের অস্তিত্ব রাখতে উপজেলা বিএনপি’র পদ’টি নেয়। এমন করে প্রত্যেকটা কমিটি থেকেই মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।
ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় অফিসে বা কেন্দ্রের নেতাদের কাছে অভিযোগ করলেও তদন্তের আশ্বাস দিয়ে কালক্ষেপণ করছে কেন্দ্রের নেতৃবৃন্দরা। কিন্তু তবুও আমরা অনুসন্ধানী মন নিয়ে এগিয়ে যাই এবং অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসে কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘটনা, গত বছরে ৫-আগস্টে ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মগোপনে বা পালিয়ে গেলেও কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হাজী রবিউল ইসলাম আছে ফুরফুরা মেজাজে। এই হাজী রবিউল ইসলামের নামে দুর্নীতি ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের নির্যাতনের অভিযোগ থাকলেও গত বছরের ৫- ই আগস্টের পরে জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে আঁতাত করে তার কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে এই আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রবিউল ইসলাম। জাকির হোসেন সরকারের সমর্থিত এক বিএনপি কর্মীর মাধ্যমে জানা যায়, ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পরে ৫০ লক্ষ টাকা হাজী রবিউল ইসলাম বিএনপি নেতা জাকির হোসেন সরকারকে দেয় এবং এ কারণেই জাকির হোসেন সরকার আওয়ামী লীগ নেতা হাজী রবিউল ইসলামকে সেল্টার দিচ্ছে। শুধু এতই থেমে নেই জাকির হোসেন সরকার তিনি গতবছরের ৫ ই আগস্টের পরে বিএনপি’র দলীয় পদে আসার পরে কুষ্টিয়ার শীর্ষ হিন্দু ব্যবসায়িকগুলোদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে এবং এক আওয়ামী সমর্থিত হিন্দু ব্যবসায়িক এর কাছ থেকে ২ থেকে ৪ কিস্তিতে প্রায় ২ কোটির বেশি টাকা নেয়। আরো আরেকটি অভিযোগের ভিত্তিতে জানা যায়, কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মালামাল ক্রয় টেন্ডারের মাধ্যমে অবৈধ ও পুরাতন মালামাল ক্রয়ের বৈধতা দিতে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এর কাছ থেকে ২ কোটি ৮০ লক্ষ টাকা কমিশন নেয় ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময়ে অভিযোগ করেণ কুষ্টিয়া শহর বিএনপি নেতা কাজল মাজমাদা। এবং কুষ্টিয়া জেলার বিভিন্ন বালু মহল, পরিবহন সেক্টর ও বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন নিয়মিত মোটা অংকের চাঁদা আসে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের পকেটে এমনটিই বলেছে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের এক সমর্থিত কর্মী। আর একারণে’ই কুষ্টিয়ার বিভিন্ন বালু মহল থেকে চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি প্রকাশ করলে আগ্নেয় অস্ত্র সহ চরমপন্থীদের দিয়ে বালু মহলে হামলার ঘটনা ঘটায় এই বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। কুষ্টিয়ার বহু আলোচিত আওয়ামী সন্ত্রাসী,দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের শীর্ষ চরমপন্থী নেতা ও আওয়ামী লীগ নেতা মাহাবুবুল আলম হানিফের পালিত ক্যাডার জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটন গত বছরের ৫-ই আগস্টে পর ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বিএনপিতে শীর্ষ পদে আসার পরে তিনি ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিশ্বস্ত ক্যাডার হিসেবে তার সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালাতে থাকে এবং কুষ্টিয়া শহরের বড় বড় ব্যবসায়িক সহ কুষ্টিয়া খাজানগরের বিভিন্ন চালকল থেকে মোটা অংকের চাঁদা তুলতে থাকে এবং আগ্নেয় অস্ত্রসহ বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালায়। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে চরমপন্থী নেতা লিপটন সহ তার আরো দুই সহযোগী গ্রেফতার হয় বিভিন্ন আগ্নেয় অস্ত্র সহ প্রচুর পরিমাণ অস্ত্র নিয়ে। কিন্তু লোকমুখে শোনা যায় এবং বাংলাদেশের জনপ্রিয় টেলিভিশন দেশ টিভি সহ একাধিক জাতীয় গণমাধ্যমে সংবাদ প্রচার হয় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের প্রচেষ্টা ও তদবিরে লিপটনকে প্রধান আসামি না করে সহযোগী আসামি করা হয় এবং উদ্ধারকিত অস্ত্রের সংখ্যা যৌথবাহিনীর সংবাদ সম্মেলনে দেখানো অস্ত্র থেকে মামলার এজাহারে সামান্য কয়টি অস্ত্র নথিভূক্ত করা হয় আর এতেই ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার কে নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয় জেলা জুড়ে। এখনো তাকে চরমপন্থীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে জেলার সুধী মহল থেকে বিভিন্ন প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়। এতেই থেমে নেই ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া সীমান্তবর্তী উপজেলা দৌলতপুরে এক অস্ত্র ও মাদক ব্যবসায়িক কে সেল্টার দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ নিয়ে থাকে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এমনটি তথ্য জানায় সাবেক চরমপন্থী নেতা ইউসুফ আলী। অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, কুষ্টিয়ার বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা মমিনুর রহমান মমিজ তার এক ঘনিষ্ঠজনের সঙ্গে মোবাইলে কথা বলার এক পর্যায়ে বলেন (ঘনিষ্ঠজনের বক্তব্য পুরোপুরি তুলে ধরা হলো) আতা ভাইয়ের সঙ্গে জাকির সরকারের নিয়মিত কথা চলে সমস্যা নেই আমাদের লোক সেভ আছে আমাদের কোন লোকের সমস্যা হবে না। হানিফ ভাই আতা ভাইকে দিয়ে জাকির সরকারের সঙ্গে ডিল করে। আমাদের লোক বাদে মেয়রের লোকদের নামে মামলা হামলা বেশি হচ্ছে এবং আরো হবে।
এমন কথাতেই বোঝা যায় কুষ্টিয়ার বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে কুষ্টিয়াতে আবার আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসন করার চেষ্টা চালাচ্ছে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের এমন কর্মকাণ্ডে হতাশা সৃষ্টি হচ্ছে নেতাকর্মীদের মাঝে। এবং রাজনীতি থেকে তারা দিন দিন মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে ও এই দীর্ঘ বছরের আন্দোলন সংগ্রামে অংশ নেওয়া ত্যাগী নেতাকর্মীরা বিভিন্ন মহলে বলছে, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে কেন্দ্রীয় নেতারা ও আগামীর দেশ নায়ক দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান ব্যবস্থা না নিলে ও সদস্য সচিব কে বহিষ্কার না করলে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়া’তে বিএনপি’র ভরাডুবি হবে এবং বিএনপি’র ঘাঁটি খ্যাত কুষ্টিয়াতে বিএনপি দিন দিন জনপ্রিয়তা হারাবে।
ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিষয়ে অনুসন্ধানে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুসন্ধানী দলের হাতে উঠে আসে তা হলো, কুষ্টিয়া শহরকে গ্রীন সিটি রূপান্তরের নামে বিভিন্ন শিল্পপতি ও আওয়ামী সমর্থিত ধনাঢ্য ব্যবসায়ীকদের কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদাবাজী করেন ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার তার উল্লেখযোগ্য প্রমাণ কুষ্টিয়ার সন্তান ঢাকাতে বসবাসরত এক গার্মেন্টস ব্যবসায়ীকের কাছ থেকে বৃক্ষরোপন কর্মসূচির কথা বলে মোটা অংকের অর্থ নেন এই প্রভাবশালী বিএনপি নেতা। এবং বাংলাদেশের স্বনামধন্য কোম্পানি কুষ্টিয়ায় অবস্থিত বৃহত্তর কলকারখানা বিআরবি থেকেও বৃক্ষরোপনের কথা বলে মোটা অংকের অর্থ নেন। সব মিলে সমাজসেবার আড়ালে এমন চাঁদাবাজি কর্মকাণ্ডে হতভম্ভ হয়ে গেছে কুষ্টিয়ার সচেতন নাগরিকেরা।
ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের আধিপত্য ও ক্ষমতার দাপদ এতোটাই ভয়ংকার যে তার বিরুদ্ধে কুষ্টিয়ার কোন সংবাদ কর্মী, সাধারণ জনগণসহ তার নিজ দলের নেতাকর্মীরাই কথা বলতে ভয় পায়। এবং তারা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের কর্মকাণ্ডের বিষয়ে গণমাধ্যমে মুখ খুলতে নারাজ কিন্তু আমাদের অনুসন্ধানী টিমও হার মানতে নারাজ। আমরা জানতে চাই ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের অতীত, কিভাবে এলো রাজনীতিতে অনেক প্রচেষ্টার পর সন্ধান মেলে এক প্রবীণ রাজনীতিবিদের কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছু এবং কুষ্টিয়ার আতঙ্কের আরেক নাম ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের ভয়ে অনেক শর্ত-সাপেক্ষ জুড়ে দিলেন তিনি তবুও আমরা তার শর্ত মেনে নিয়ে জানতে থাকি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব এর অতীত এবং কিভাবে এলো রাজনীতিতে অবশেষে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক সেই প্রবীণ রাজনীতিবিদ বলেন, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বুয়েটে ছাত্র থাকাকালীন তিনি ছাত্রশিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হয় এবং ছাত্র জীবনে ছাত্র শিবিরে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে অবশ্য তিনি ছাত্র জীবনে একজন মেধাবী ছাত্র ছিলেন বুয়েট থেকে পাস করার পরে চাকরি জীবন শুরু করে কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মোসাদ্দেক হোসেন ফালু’র কোম্পানিতে। সেই সূত্র ধরে এবং জাকির হোসেন সরকারের নিজ কৌশলকে কাজে লাগিয়ে রাতারাতি ছাত্রশিবির থেকে বিএনপি’তে নিজের একটি জায়গা করে নেয় ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার আর সেই থেকে তার উত্থান শুরু এবং গত বছরের ৫-ই আগস্টের পরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটিতে সদস্য সচিব হওয়ার পর থেকেই চলতে থাকে তার বেপরোয়া জীবন যাপন। কুষ্টিয়ার দই শীর্ষ নেতা কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের কারণে’ই আমরা যারা প্রবীন দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা যারা কুষ্টিয়াতে নেতৃত্ব দিয়েছি এবং স্বৈরাচার শেখ হাসিনার আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী দ্বারা হামলা-মামলা নির্যাতনের শিকার হয়েছি তারা আজ আমরা এই কমিটি দেওয়ার পর থেকে আমরা রাজনীতি বাদ দিয়েছি কারণ এই মামা-ভাগ্নের কমিটির অপকর্ম,চাঁদাবাজির দায় আমাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে কলঙ্কিত যেন না করতে পারে। আমরা দলের দুঃসময়ের কর্মী ছিলাম এবং ভবিষ্যতেও যদি কোনদিন দলের দুঃসময়ে আসে সেদিনও আমরা মাঠে থাকবো। কিন্তু এই কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের এমন কর্মকান্ডে কুষ্টিয়াতে বিএনপি’র জনপ্রিয়তা দিন দিন হারাতে বসেছে। কারণ স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চাঁদাবাজি,নির্যাতনের যে কর্মকাণ্ডগুলো চলেছে এবং শীর্ষ সন্ত্রাসী ও চরমপন্থীদেরকে যেভাবে আশ্রয় প্রশ্রয় দিয়েছে ঠিক একইভাবে সেই কাজগুলোই করছে আমাদের বিএনপি নেতা জাকির হোসেন সরকার। আর এ কারণেই বিএনপি থেকে কুষ্টিয়ার মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুষ্টিয়ার ৪ টি আসন বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও ধানের শীষ প্রতীক বিজয়ের অনিশ্চয়তা দেখতেছি আমরা।
এই প্রবীণ বিএনপি নেতার বক্তব্য ও অনুসন্ধানে উঠে আসা বিভিন্ন তথ্যের পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যায় একসময়ের শিবির কর্মী এখন বিএনপি নেতা এবং কুষ্টিয়া জনপদের একসময়ের মাফিয়া মাহাবুবুল আলম হানিফ ও কামারুল আরেফিনের রাজত্বে এখন নতুন গডফাদার বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার।
Leave a Reply