নিজস্ব প্রতিবেদক:
ভোরের আলো যখন কুমারখালী-খোকসার মাটি ছুঁয়ে যায় তখন নতুন এক স্বপ্ন বুণে এখানকার মানুষ। সেই স্বপ্ন যেমন ফসলের মাঠে ঠিক তেমনি তাদের চোখে ভাসে আগামীর বাংলাদেশের চিত্র। এই ধুলো মাটিতে কান পাতলে এখনো শোনা যায় লালন শাহের অমর বাণী “মানুষ ভজলে সোনার মানুষ হবি ” এটি লালনের ভূমি যেখানে জাতপাতের উর্ধ্বে মানুষের জয় গান গাওয়া হয়। এখানকার মাটি ধারণ করে আছে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতি বিজড়িত কুঠিবাড়ি। যেখানে বসে তিনি লিখেছিলেন গীতাঞ্জলী সহ একাধিক বিশ্ববিখ্যাত প্রবন্ধ ও উপন্যাস। এখানে আরো আছে বিপ্লবী বাঘা যতীনের স্মৃতি সহ গ্রামীণ সাংবাদিকতার জনক কাঙ্গাল হরিনাথ সহ একাধিক বরেণ্য ও কৃতি সন্তানের জন্ম এই কুষ্টিয়ার কুমারখালী-খোকসা উপজেলাতে।
কিন্তু এই আধ্যাত্মিকতার ভূমির পাশ দিয়ে বয়ে গেছে রাজনৈতিক খরস্রোতা নদী। একপাশে অশান্ত পদ্মা নদী ও অন্যপাশে গড়াই নদী। আর এই দুয়ের মাঝ খানের জনপদে ক্ষমতার আসনেও বসেছে কত শাসক। কুষ্টিয়া-৪ আসনে গত দের দশক ধরে রাজনৈতিক মূল সুর রেখে দিয়েছিল একটি মাত্র দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। কিন্তু গত বছরের ৫-ই আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতা ছাড়লে আবারো নতুন দিগন্তের হাতছানি দিচ্ছে। এখানকার সাধারণ জনগণ আবার নতুন স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে।
কুষ্টিয়া -৪ আসন কুষ্টিয়া জেলার রাজনীতিতে রয়েছে ব্যাপক ভূমিকা। এ কারণেই এই সংসদীয় আসন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের রয়েছে বিশেষ নজর। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি সাংগঠনিকভাবে এখানে শক্তিশালী হওয়ায় অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সাংগঠনিক কার্যক্রম তেমন একটা দেখা যায় না। কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রচার প্রচারণা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
কুষ্টিয়া -৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র মনোনয়ন পেতে একাধিক প্রার্থী প্রচার – প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে। তাদের মধ্যে অন্যতম কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী ও কৃষক দলের হাফেজ মইনুদ্দিন। তবে প্রার্থীদের মধ্যে জনপ্রিয়তা ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের সঙ্গে বিশেষ সক্ষতা রয়েছে শেখ সাদী’র। তিনি এলাকাতে তার নিজ অর্থায়নে মসজিদ, মাদ্রাসা, হাসপাতাল, মিনি স্টেডিয়াম সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা সহ একাধিক উন্নয়নমূলক ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড করে কুষ্টিয়া – ৪ আসনে তার নিজের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। যা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সহ বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রশংসা করেছে। এবং এলাকায় আরো জনসেবামূলক কাজ ও দলকে সাংগঠনিকভাবে আরো শক্তিশালী করার নির্দেশ দিয়েছে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা এক সাবেক সংসদ সদস্য ও বর্ষিয়ান রাজনৈতিক নেতা বলেন, মনোনয়নের তালিকায় কুষ্টিয়া -৪ আসনে শেখ সদী’র এক্টিভিটিস ও জনপ্রিয়তার কারণে তিনি প্রথম স্থানে আছে। এবং আমাদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমানের বিশেষ নজরে আছে শেখ সাদী।
কুষ্টিয়া – ৪ আসনে শেখ সাদীর সমর্থকেরা বলেন, শেখ সাদী’কে যদি বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী করা হয় তাহলে এ আসন থেকে বিপুল পরিমাণ ভোটে বিএনপি জয়লাভ করবে যা অতীতের সকল রেকর্ড ভেঙে এবং অন্যান্য আসন থেকে সব থেকে বেশি ভোট বিএনপিতে পড়বে।
এ বিষয়ে শেখ সাদী মুঠোফোনে জানান, মনোনয়ন পাওয়া বা এমপি হওয়ার জন্য আমি রাজনীতিতে করিনা। আমি রাজনীতি করি সাধারণ মানুষের জন্য। সাধারণ মানুষের কল্যাণে আমার এ কাজগুলো চলমান থাকবে সব সময়। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দেয় তাহলে আমি এতোটুকু বলতে পারি কুষ্টিয়া-৪ আসন আমি দেশ নায়ক তারেক রহমানকে উপহার দেব। এবং সব থেকে বড় বিষয় আমি শাসক নয়, সেবক হতে চাই… এটাই আমার সবথেকে বড় স্বার্থ।
Leave a Reply