1. shobujsk1990@gmail.com : Sobuj :
July 30, 2026, 11:26 am
শিরোনাম:
বিএনপির আদর্শে ‘অ্যাসোসিয়েশন অব মেরিটাইম প্রফেশনালস (বাংলাদেশ)’-এর কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন গোপালগঞ্জের গণহত্যার বিচার বাংলার মাটিতেই হবে: মিজানুর রহমান বিটু খোকসার রাজনীতিতে নতুন মুখ কে এই সালেহীন খান “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন আরিফুল ইসলাম নয়ন “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন তারিকুল ইসলাম ​অবক্ষয়ের মুখে সমাজ: বাল্যবিবাহ,মাদক ও ধর্ষণের কবলে পুরো জাতি পৌর মেয়র নয় সবার বন্ধু হতে চাই “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে শুভেচ্ছা জানালেন নাজমুস সালেহীন খান “ইনভেস্টিগেশন নিউজ” এর প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে শুভেচ্ছা মো: সায়েদুজ্জামান দৌলতপুরের ফিলিপনগরে মাদক ব্যবসার অভিযোগ: একাধিক মামলার আসামি মাসুদকে ঘিরে এলাকাবাসীর উদ্বেগ

কুষ্টিয়ায় গভীররাতে পদ্মায় বালু উত্তোলনের মহোৎসব

  • আপডেটের সময়: Friday, October 3, 2025
  • 249 Time View

চাঁদ আলী,কুষ্টিয়া:
প্রশাসনের নাকের ডগায় অবাধ লুটপাট, নদীভাঙন ও পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার তালবাড়িয়া ঘাট এলাকায় পদ্মা নদীজুড়ে গভীর রাতে অব্যাহত রয়েছে অবৈধ বালু খালাসের মহোৎসব। প্রতিদিন রাত ১০টা থেকে ভোর পর্যন্ত চলে এই কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের নেতৃত্বে প্রশাসনের নীরবতা এবং রহস্যজনক ‘ম্যানেজ’ সংস্কৃতির কারণে দীর্ঘদিন ধরেই এই লুটপাট চলছে নির্বিঘ্নে।

স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন অন্তত ১২-১৩টি নৌকা দিয়ে বিভিন্ন স্থান থেকে আনা বালি এখানে খালাস করা হয়। এতে নদীর প্রাকৃতিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, বাড়ছে ভাঙন এবং নষ্ট হচ্ছে স্থানীয় রাস্তাঘাট। অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

প্রভাবশালীদের নেতৃত্বে ‘রাতের অপারেশন’
স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, এই অবৈধ বালু খালাসের নেতৃত্ব দিচ্ছেন একাধিক প্রভাবশালী ব্যক্তি—যাদের মধ্যে আছেন স্থানীয় মেম্বার মতি, কটা শরীফ, সাইফুল কবিরাজ, অকসেদ, ইয়াসিন এবং ইকবাল। এলাকাবাসীর অভিযোগ, তারা কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না; কারণ এসব চক্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ জানালে হুমকির মুখে পড়তে হয়।

স্থানীয় এক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“রাতের আঁধারে বালু খালাস হয়। কেউ কিছু বললে বিপদ হতে পারে। তারা বলে, ‘আমরা সরকারি প্রজেক্টে বালি দিই, আমাদের কেউ কিছু করতে পারবে না।’”

বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে অভিযুক্ত শরিফুল সাংবাদিককে সোজাসাপ্টা বলেন,
“আমরা বিভিন্ন জায়গা থেকে বালি এনে এখানে খালাস করি। আপনি যাহা পারেন করেন।”

অন্যদিকে মতি (মেম্বার) জানান,ভাই, আমি একা না। আরও অনেকেই তোলে। আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করে রাতের আঁধারে বালি খালাস করি।”

বিষয়টি কুষ্টিয়া মিরপুর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নজরে আনা হলে তিনি প্রথমে অবগত ছিলেন না বলে জানান।
তিনি বলেন,বিষয়টি আমার জানা ছিল না। আপনাদের মাধ্যমেই জানলাম। আমরা দ্রুতই তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”
নদী ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুযায়ী, অনুমতি ছাড়া নদী থেকে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ বেআইনি। এর ফলে নদীর স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হয়, বাড়ে ভাঙন এবং হুমকির মুখে পড়ে নদীতীরবর্তী বসতভিটা, কৃষিজমি ও অবকাঠামো। এছাড়া সরকার হারায় বিপুল রাজস্ব।
পরিবেশবিদ ও গবেষকদের মতে, এভাবে নির্বিচারে বালু উত্তোলন নদীর প্রকৃতি ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হুমকি। নদীর তলদেশ গভীর হয়ে যাওয়ার ফলে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং একপর্যায়ে তীরবর্তী এলাকা ভেঙে পড়ে।
চলতি বছরের একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বাংলাদেশে অবৈধ বালু উত্তোলন নদীভাঙন ও ভূমি ক্ষয়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। পদ্মার এই অংশে পরিস্থিতি একই রকম হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানানয়তালবাড়িয়া এলাকার সাধারণ মানুষ এই বালু চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ দাবি করছেন। তারা বলছেন,
রাতের বালু খালাস বন্ধ করতে নিয়মিত অভিযান চালাতে হবে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে
নদী রক্ষায় একটি স্থায়ী মনিটরিং সেল গঠন করতে হবে
পদ্মা নদী বাংলাদেশের অন্যতম প্রাণ। সেই নদীর বুক চিরে যদি এভাবে দিনের পর দিন অবাধে সম্পদ লুটপাট হয়, তবে শুধু পরিবেশই নয়—সমগ্র এলাকার জনজীবন, কৃষি, অবকাঠামো এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।

স্থানীয় আরেক বাসিন্দা বলেন,রাতের বেলায় শত শত গাড়ি আসে বালি নিয়ে যায়,আমরা গাড়ির শব্দে ঘুমাতে পারি না। মাঝে মধ্যে পুলিশও আসে তবে বালি কাটা চক্রের কিছু হয় না। তারা সব ম্যানেজ করেই করে মনে হয়। বিগত দিনেও বালি কাটা হতো এখনও কাটা হয় পার্থক্য কোথায় খুঁজে পাচ্ছি না।,প্রশাসনের নিরবতায় নির্ভয়ে রাতে বালু চুরি করে বিক্রি করে কতিপয় বিএনপি নামধারী নেতারা লাখ লাখ টাকা কামিয়ে নিয়েছেন। প্রায় ১ মাস ধরে নিয়মিতভাবে বালি মাটি কেটে বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের নেই কোন হস্তক্ষেপ।

প্রশাসনের দায়িত্ব এখন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া এবং এই চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যাতে ভবিষ্যতে কেউ নদীকে লুটের মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করার সাহস না পায়।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2026 S.S Media Limited
Theme Customized By Unkwon