নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
আসন্ন ক্রায়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-৩ ও কুষ্টিয়া-৪ আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়ছে। ১৭ বছর পর ভোটাধিকার ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশায় ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বিপুল উৎসাহ। কুষ্টিয়া-৪ আসনে বিএনপি’র একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার’কে ঘিরে এ আসনের সাধারণ ভোটার ও বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া। এবং সমালোচনার ঝড় বইছে গ্রামের অলিগলি বিভিন্ন চায়ে’র স্টলে। তবে মনোনয়ন প্রত্যাশী ও জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার’কে নিয়ে সমালোচনা এটি নতুন কোন বিষয় নয়। তিনি জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব পদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তার বিভিন্ন কর্মকান্ডে অনেকবার বিতর্কিত হয়েছে এবং জেলা বিএনপি’র অনেক বর্ষিয়ান নেতা ও সাধারণ কর্মীরা প্রকাশ্যে তার স্বেচ্ছাচারিতা ও কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সমালোচনা করেছে।
কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ আসন কারণ খোকসা উপজেলা ও কুমারখালী উপজেলা মিলে কুষ্টিয়া-৪ আসন।বরাবরই জেলার রাজনৈতিক সমীকরণে এই আসনটির গুরুত্ব অপরিহার্য। এই আসনটিতে একাধিকবার বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী ও সাবেক সংসদ সদস্য ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি। তিনি এবারও দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী এবং এ আসনটিতে আরো মনোনয়ন চাচ্ছে, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক ও এশিউর গুপের চেয়ারম্যান শেখ সাদী এবং জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাফেজ মোঃ মঈনুদ্দিন।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব,ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বাড়ি কুষ্টিয়া সদর শহরে যা কুষ্টিয়া-৩ সংসদীয় এলাকার মধ্যে এবং জাকির হোসেন সরকারের ছোটবেলা থেকে শুরু করে রাজনৈতিক জীবন এবং এ পর্যন্ত কুষ্টিয়া শহরে’ই তার রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড, পরিচিত ও বসবাস। তিনি একবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছিল। সব মিলে জানা যায়, কুষ্টিয়া- ৩ আসনে তার কিছু সমর্থক ও কিছুটা জনপ্রিয়তা থাকলেও কুষ্টিয়া -৪ আসনে সমর্থক ও জনপ্রিয়তা একেবারেই তলানিতে। এটির অন্যতম কারণ সম্পর্কে জানা যায়, কুষ্টিয়া -৪ সংসদীয় এলাকার খোকসা উপজেলা ও কুমারখালী উপজেলায় বিএনপি’র ওয়ার্ড কমিটি থেকে শুরু করে উপজেলা কমিটি পর্যন্ত সব জায়গাতে নিজের আত্মীয়-স্বজন ও টাকার বিনিময়ে আওয়ামী লীগের পদ ধারী নেতাদেরকে বিএনপি’র বিভিন্ন কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়ায় ক্ষোভে – ফুঁসে উঠেছে এই দুই উপজেলার ত্যাগী ও নির্যাতিত বিএনপি’র নেতাকর্মীরা।
ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার কুষ্টিয়া -৪ আসন থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী এ বিষয়ে তার ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে কৌশলে জানা যায়, কুষ্টিয়া – ৩ আসন থেকে বাংলাদেশ জামাতে ইসলামের একক প্রার্থী ইসলামী বক্তা আমির হামজা এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এবং জামাতে ইসলামের কিছু নেতৃবৃন্দের নির্দেশে বিএনপি নেতা ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার তার নিজ সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া -৩ ছেড়ে এবার কুষ্টিয়া -৪ থেকে বিএনপি’র মনোনয়ন চাচ্ছে। আর কুষ্টিয়া -৪ থেকে মনোনয়ন চাওয়ার মূল উদ্দেশ্যে কুষ্টিয়া – ৩ আসনে জামাতের প্রার্থীকে বিজয়ী করার। এমনটি জানা গেছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের ঘনিষ্ঠদের কাছ থেকে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া -৪ আসনে’র সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি বলেন, ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বুয়েটে লেখাপড়া’র সময় থেকে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলো। দীর্ঘদিন শিবিরের একজন সক্রিয় সদস্য হিসেবে ভূমিকা পালন করেছে এবং পরবর্তীতে চাকরি জীবনে এক বিএনপি’র সাবেক মন্ত্রীর প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার সুবাদে বিএনপি’তে যোগ দেয়। কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার বিএনপি নেতা হলেও তার প্রথম স্ত্রী গত বছরের ৫-ই আগস্ট এর আগ পর্যন্তও বাংলাদেশ জামাতে ইসলামের মহিলা রোকন হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছে। কিন্তু জাকির হোসেন সরকার গত বছরে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব পদের দায়িত্ব পাওয়ার পরে জামাতে ইসলামের কমিটি থেকে স্ত্রী’র নামটি বাদ দিলেও তারা পারিবারিকভাবে জামাত সমর্থিত পরিবার এটা কুষ্টিয়ার সবাই জানে।
এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে তার পক্ষ থেকে জানানো হয় তিনি এসব বিষয়ে কোনো কথা বলবে না সাংবাদিকদের সঙ্গে।
Leave a Reply