বিশেষ প্রতিবেদক:
মনোনয়ন দ্বন্দ্বে প্রকাশ্যে বিষোদ্গার আর কাদা ছোড়াছুড়িতে মেতেছেন কুষ্টিয়া- ৪ আসনের বিএনপি নেতারা। শুধু সভা-সমাবেশে নয়, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ পত্রিকায় বিবৃতি দিয়েও চলছে একে অপরের চরিত্র হনন। বিষয়টি নিয়ে একদিকে যেমন চলছে আলোচনা-সমালোচনা, তেমনি বিব্রত দলের মাঠপর্যায়ের কর্মী-সমর্থকরা। নিজেরাই নিজেদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস আর ফ্যাসিস্ট তোষণের অভিযোগ তোলায় ক্ষতির মুখে পড়ছে ধানের শীষ-এমনটাও বলছেন অনেকে। পরস্পরের বিরুদ্ধে তোলা এসব অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করলেও নির্বাচনে যে এসবের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলা করতে হবে তা অস্বীকার করেননি দলটির নেতারা।
কুষ্টিয়া – ৪ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লড়াইয়ে উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের মধ্যে অন্যতম সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী, জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী, কৃষক দলের নেতা হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন। তবে দলীয় গ্রিন সিগনালে আছে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী ও জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী।
কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীতার ঘোষণা না দিলেও লোকমুখে শোনা যায় তিনি তার নিজ আসন কুষ্টিয়া সদর ছেড়ে কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে মনোনয়ন চাচ্ছে।
দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিষোদ্গার আর কাদা ছোড়াছুড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রার্থীদেরকে নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ দেখা যাচ্ছে ফেসবুকে, তার মধ্যে অন্যতম হলো কৃষক দলের নেতা হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন এর বিরুদ্ধে সৌদিসহ বিভিন্ন রাষ্ট্র থেকে প্রবাসীরা টিকটক ও ফেসবুকে লাইফ ও ভিডিওতে বলছে হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন তাদেরকে বিদেশে ভালো কাজের লোভ দেখিয়ে মোটা অংকের টাকা নিয়ে তাদেরকে কোন কাজের ব্যবস্থা করে দেয়নি ও ভিসা লাগিয়ে দেয় নি এতে তারা খুবই কষ্টের মাঝে প্রবাসে জীবন যাপন করছে। আরো অনেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলছে জাল ভিসা সহ নিরীহ মানুষকে বিদেশে পাঠানোর নামে সর্বস্বান্ত করছে এই হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন। তবে এ বিষয়ে হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন সম্পূর্ণ অস্বীকার করে বলেন তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এদিকে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে একের পর এক মানববন্ধন,সংবাদ সম্মেলন সহ চাঁদাবাজির অভিযোগ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন ওপেন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এ বিষয়ে তার কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আর এক প্রার্থী শেখ সাদী তিনি এশিউর গুরুপের চেয়ারম্যান। তার কোম্পানিকে নিয়েও বিভিন্ন সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছে তবে তিনি এ বিষয়ে বলেন, স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তারা তার কোম্পানিতে বিভিন্ন সময়ে অভিযান চালিয়ে কোন দুর্নীতির তথ্য পায়নি। এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে সমস্ত অভিযোগের কথা বলা হচ্ছে তা সম্পন্ন ভিত্তিহীন। রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র করে আমার বিরুদ্ধে যখন কোন অভিযোগ পাইনি বা প্রমান করতে পারেনি তখন আমার কোম্পানি নিয়ে বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছে।
এদিকে সাবেক সংসদ সদস্য প্রবীন রাজনীতিবিদ সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমীকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করা হয়েছিল তার ভাই ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি ফোর্স এর প্রধান থাকাকালীন বিএনপি মাইনাসের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তবে এ বিষয়ে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমী জানান, সত্যই যদি এমনটা হতো তাহলে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার আমার ওপর এত নির্যাতন চালাত না। বিএনপি’র সঙ্গে বেইমানি আমার পরিবারের কেউ কখনো করেনি এবং কি আমিও যতদিন বেঁচে আছি করবো না।
প্রার্থীদের একে অপরের বিরুদ্ধে কাদা ছোড়াছুড়ির বিষয়ে দলের সাধারণ নেতাকর্মীরা বলেন, প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তুলছে এতে করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে করে বিএনপি’র প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা উঠে যাচ্ছে। যার প্রতিক্রিয়া নির্বাচনের সময় পড়বে।
Leave a Reply