খোকসা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় সরকারি অফিসগুলো থেকে শুরু করে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তি সহ গ্রাম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের কাছে পাগলা লতিফ বা পাগলা সাংবাদিক নামে পরিচিত আব্দুল লতিফ। খোকসা উপজেলার শিমুলিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গরিয়া গ্রামের সন্তান আব্দুল লতিফ। ছোটবেলা থেকে বাবার কৃষি কাজের মাধ্যমে তার কর্মজীবন শুরু হয় এবং একাডেমিক শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই বললেই চলে তবে তার প্রতিবেশীরা জানান,আব্দুল লতিফ প্রাথমিকের গণ্ডিও পেরোতে পারেনি। ছোটবেলা থেকেই আব্দুল লতিফ এর মাঝে মানসিক ভারসাম্যহীনতার লক্ষণ দেখা যায় কিন্তু কৃষক পরিবারের সন্তান হওয়ায় উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেনি পরিবার এমনটিই জানান আব্দুল লতিফ এর প্রতিবেশীরা।
আব্দুল লতিফ বিজনেস ফাইল নামে একটি পত্রিকায় উপজেলা প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করে কিন্তু তার নামে প্রকাশিত কোন সংবাদ তেমন দেখা যায় না। তবে তার ফেসবুক আইডিতে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ব্যক্তিদেরকে উদ্দেশ্য করে অনেক মানহানী কর পোস্ট করতে দেখা যায়। কিন্তু ফেসবুকে পোস্ট করা লেখাগুলোর মধ্যে অধিকাংশ বানান ভুল থাকে। এই ফেসবুক পোস্টগুলো ব্যক্তি সম্মানহানী ও সাংবাদিকতা পেশাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আব্দুল লতিফ এর বিরুদ্ধে অভিযোগ আছে, গ্রামের সহজ সরল সাধারণ মানুষকে পুলিশ দিয়ে গ্রেপ্তার করানো, নিউজ করা বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করা এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার নির্দেশে সেই সমস্ত নেতাদের প্রতিপক্ষকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করার জন্য নিউজ করতে গেলে নেতাদের প্রতিপক্ষ সাধারণ মানুষকে তার মোবাইলের ক্যামেরায় সাক্ষাৎকার নিতে গেলে আব্দুল লতিফের শিখানো কথার বাইরে কথা বলতে গেলে তিনি সাক্ষাৎকার নেওয়া ব্যক্তির উপর রেগে গিয়ে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে এবং সহজ সরল শান্ত প্রকৃতির ব্যক্তি হলে তার গায়ে একপর্যায়ে হাতও তোলে। একবার উপজেলার গোপগ্রাম ইউনিয়নে একটি পারিবারিক বিষয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে বিরোধ শুরু হলে আব্দুল লতিফ সেখানে উপস্থিত হন এবং স্ত্রীর বক্তব্য ভিডিও করার সময় আব্দুল লতিফ এর শেখানো কথা না বলাই আব্দুল লতিফ বাজে ভাষায় সেই মহিলাকে গালিগালাজ করে এবং গায়ে হাত পর্যন্তও তোলে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সে সময় স্থানীয় সাংবাদিকদের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। সাংবাদিকতার নীতিমালার তোয়াক্কা না করে ধর্ষিত হওয়া ব্যক্তি ও হামলায় নিহত বা আহত হওয়া ব্যক্তিদের রক্তাক্ত ছবি ফেসবুকে পোস্ট করা সহ তার একাধিক কর্মকাণ্ডে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে সাংবাদিকতা পেশা
কুষ্টিয়া জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সদর উদ্দিন খানের ভাতিজা পরিচয়ে এবং বিভিন্ন আওয়ামী লীগ নেতাদের নাম ভাঙ্গিয়ে ও পুলিশ প্রশাসনের ভয় দেখিয়ে সাধারণ মানুষ ও বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক, বেকারি সহ কোচিং সেন্টার গুলো থেকে নিয়মিত অর্থ আদায় করতো আব্দুল লতিফ। তবে মানসিক ভারসাম্যহীন আব্দুল লতিফ এর এ সমস্ত কর্মকাণ্ডের পিছনে একটি চক্র আছে বলে ধারণা করে অনেকেই। আর এই চক্র দ্বারা নিয়ন্ত্রিত আব্দুল লতিফ কারণ মানসিক ভারসাম্যহীন হয়েও সাংবাদিক পরিচয়ে খোকসা উপজেলার সমস্ত সরকারি অফিসগুলোতে দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহের নামে অবৈধ সুযোগ-সুবিধা নেওয়া, সাধারণ মানুষকে সামাজিকভাবে হেনস্তা করে ভয়- ভীতি দেখিয়ে অর্থ দাবি করা সহ তার সমস্ত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে কথাবার্তা, চলাফেরা এবং বাচন ভঙ্গির কোন মিল পাওয়া যায় না। এজন্য খোকসাতে কর্মরত অনেক সাংবাদিক’ই ধারণা করে আব্দুল লতিফকে দিয়ে এ সমস্ত কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে একটি চক্র।
আব্দুল লতিফের এমন কর্মকাণ্ডে প্রতিনিয়তই সাংবাদিকতা পেশা কে নিয়ে উপহাস করে বিভিন্ন মহল।এতে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে উপজেলার কর্মরত পেশাদার সাংবাদিকরা। তারা বলেন, সরকারি সহযোগিতা বা ব্যক্তি উদ্যোগে আব্দুল লতিফ এর চিকিৎসার প্রয়োজন। সঠিক চিকিৎসা পেলে আব্দুল লতিব সুস্থ হয়ে উঠবে।
Leave a Reply