জেলা সংবাদদাতা,কুষ্টিয়া:
কুষ্টিয়ার খোকসা সরকারি কলেজে চলমান সংস্কারকাজে অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। প্রায় ২০ লাখ টাকার অধিক ব্যয়ে কলেজের একটি পুরাতন টিনশেড ভবনের সংস্কারকাজে মানসম্মত নির্মাণকাজ হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের দাবি উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কলেজের পুরাতন টিনশেড ভবনের ফ্লোরসহ বিভিন্ন সংস্কারকাজের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। রবিবার (৭জুন) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভবনটির ফ্লোর ঢালাইয়ের কাজ চলমান রয়েছে। এ সময় কয়েকজন স্থানীয় ব্যক্তি অভিযোগ করেন, ঢালাই কাজে নিম্নমানের ইটের খোয়া, বালি এবং প্রয়োজনের তুলনায় কম সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে। তাদের দাবি, কাজের গুণগত মান নিয়ে শুরু থেকেই প্রশ্ন রয়েছে।
এ বিষয়ে খোকসা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ শিশির কুমার রায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অনিয়মের অভিযোগ শোনার পর তিনি নিজেও কাজের স্থান পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছি ফ্লোরে প্রায় চার ইঞ্চি ঢালাই দেওয়া হচ্ছে। কাজের বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
তবে ঘটনাস্থলে উপস্থিত কলেজের প্রভাষক মো. জাহিদ হাসানের সঙ্গে সাংবাদিকদের কথোপকথনের একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। তিনি পুরাপুরি ঠিকাদার কর্তৃপক্ষে কথা বলেন। তিনি অভিযোগ করেন, কলেজের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের তুলনায় বিভিন্ন অভিযোগ কেন্দ্রিক সংবাদ বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে।
এদিকে কলেজের সংস্কারকাজ তদারকি কমিটির সদস্য ও অর্থনীতি বিভাগের প্রভাষক মো. আনিচুর রহমান গত ৭ জুন কমিটি থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। যদিও তার পদত্যাগের কারণ সম্পর্কে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানা যায়নি।
বর্তমানে সংস্কারকাজ তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন প্রভাষক মুহা. আরিফ হোসেন ও মো. জাহিদ হাসান। অভিযোগকারীদের দাবি, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে দায়িত্বপ্রাপ্তদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখা প্রয়োজন ছিল কিন্তু সে গুড়ে বালু।
সংস্কারকাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশলী রিয়াজুল ইসলামের কাছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নাম জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজটি সম্ভবত ‘দিপু এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। তবে তিনি এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য দিতে পারেননি।
অন্যদিকে, কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা রোকনুজ্জামান রাসেলের কাছে প্রকল্পের শিডিউল ও কারিগরি বিবরণী জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো নথি দেখাতে পারেননি। তিনি জানান, শিডিউল তার কাছে নেই।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করেন, সংস্কারকাজে নির্ধারিত মান বজায় রাখা হয়নি এবং বিষয়টি যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সরেজমিনে তদন্ত করলে প্রকৃত অবস্থা উঠে আসবে।
এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তাদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
তবে প্রতিবেদন প্রকাশ পর্যন্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
Leave a Reply