নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
হেভিওয়েট সংসদীয় আসন কুষ্টিয়া-৪, কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী উপজেলা কুমারখালী ও কুষ্টিয়া জেলার প্রবেশদ্বার খোকসা উপজেলা নিয়ে গঠিত কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন। এ আসনে মোট ভোটারের সংখ্যা আনুমানিক ৩,৯৬,৫৯৭।
কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসনে ১৯৭১ সালের পর থেকে বিভিন্ন সময়ে ক্ষমতার পালা-বদলের মাধ্যমে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা এ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছে। তবে ১৯৭১ সাল থেকে এ আসনটিতে বেশিরভাগ নির্বাচিত হয়েছে ও শাসন করেছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। কিন্তু ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন থেকে শুরু করে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রয়েছে বিভিন্ন বিতর্ক। এ আসনটিতে ১৯৭৩ সালের থেকে সর্বমোট ৬ বার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী ৩ বার নির্বাচিত হয়েছে, বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল – জেএসডি’র মনোনীত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে ১ বার, স্বতন্ত্র প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছে ১ বার।
দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাইরে থাকলেও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র দুর্গ হিসেবে পরিচিত কুষ্টিয়া -৪ আসন। তবে দীর্ঘদিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল এবং আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থীরা জনপ্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় কিছুটা জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়েছিল বিএনপি’র। তবে খরস্রোতা নদীর মতো আবারো জনপ্রিয়তার কাছাকাছি অবস্থান করছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি। এবং আবারো আগের মত বিএনপি’র নেতাকর্মীরা তাদের পুরনো দুর্গ ফেরাতে চায়।
গত বছরের ৫ ই আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতা ছাড়লে বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ছাত্র জনতার উপর হামলা ও হত্যা সহ বিভিন্ন সেক্টরে দুর্নীতির অভিযোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। তবে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবে কি না এ বিষয়ে স্পষ্ট কোন বক্তব্য পাওয়া যায়নি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষে প্রার্থীরা নিজ নিজ সংসদীয় এলাকায় নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছে।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক ও এশিউর গুরুপের চেয়ারম্যান মোঃ শেখ সাদী, কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন।
কুষ্টিয়া-৪ আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী থাকলেও স্থানীয় বিএনপি’র নেতাকর্মীরা বলেন, একটি বৃহত্তর দলে একাধিক প্রার্থী থাকবে এটাই স্বাভাবিক। সবাইকে দলের নির্দেশনা মেনে কাজ করতে হবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশীরা এ আসনে দলীয় প্রচার-প্রচারণা ও বিভিন্ন সামাজিক ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড করলেও স্থানীয় রাজনীতি ও সাংগঠনিকভাবে শক্তিশালী অবস্থায় রয়েছে সাবেক সংসদ সদস্য ও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক ও এশিউর গুরুপের চেয়ারম্যান মোঃ শেখ সাদী। তবে সংসদীয় এলাকার যুবসমাজের একটি বড় অংশ ও স্থানীয় বিএনপি’র উপজেলা কমিটি সহ বিভিন্ন অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্ব দেওয়া সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকসহ দলীয় নেতাকর্মীদের বেশির ভাগ’ই কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক ও এশিউর গুরুপের চেয়ারম্যান মোঃ শেখ সাদী’র সমর্থক।
কিন্তু তবুও নিজেদের অবস্থান জানান দিতে মাঠে রয়েছে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক, কৃষক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন। তবে হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন’কে ঘিরে রয়েছে অনেক সমালোচনা। নিজ এলাকার সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে তার বিরুদ্ধে রয়েছে প্রতারণার অভিযোগ। এবং মানব পাচার মামলাও রয়েছে তার নামে। জানা যায়, জাল ভিসা চক্রের অন্যতম মাস্টারমাইন্ড হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন। স্থানীয় বিএনপি নেতারা অনেকেই বলেন, দলীয় পদবী ও লোক দেখানো প্রার্থী হয়ে প্রচার-প্রচারণা করা এটিও তার প্রতারণার আরেকটি কৌশল। এ বিষয়ে হাফেজ মোঃ মইনুদ্দিন এর বক্তব্য নিতে চাইলে তিনি কথা বলতে রাজি হয়নি।
বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী ইতিমধ্যে কুষ্টিয়া-৪ আসনে তাদের দলীয় প্রার্থী ঘোষণা দিয়েছে। বাংলাদেশ জামাতে ইসলামী কুমারখালী উপজেলার নায়েবে আমির মোঃ আফজাল হোসেন দলীয় প্রার্থী হয়েছে। এবং মাঝে মাঝেই তাকে বিভিন্ন প্রচার-প্রচারণা করতে দেখা যায়। তবে কুষ্টিয়া-৪ আসনে সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হলেও নির্বাচনী মাঠে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত আছে বলে জানান এই প্রার্থী।
এদিকে এবার কুষ্টিয়া-৪ আসনে চমক দেখাতে চায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির দলীয় প্রার্থী হয়েছেন আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন খান। ইতিমধ্যে তিনি তার ব্যতিক্রমী প্রচার-প্রচারণাই নজর কেড়েছে সবার। দলটি ২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী দিয়েছিল কিন্তু সে সময় আশাকর কিছু না হলেও এবার তারা বিজয়ের সুনিশ্চিতের আশায় রয়েছে। তবে বৃহত্তর রাজনৈতিক দল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র হেভিওয়েট প্রার্থীর কাছে নির্বাচনী লড়াইয়ে ও ফলাফলে টিকে থাকতে পারবে কিনা এ বিষয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর মনোনীত প্রার্থী আলহাজ্ব আনোয়ার হোসেন খান’কে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, বিজয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী। কারণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মানুষের কল্যাণে কাজ করে। ইসলাম মানে শান্তি আর এই শান্তি প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এর প্রার্থী কে বিজয় করতে হবে। এবং সাধারণ মানুষ আমাদের পাশে আছে।
Leave a Reply