আলমগীর অরণ্য,ঝিনাইদহ:
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ শৈলকুপা আসনে ফুরফুরে মেজাজে ধানের শীষের প্রার্থী সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান।
জেলার গুরুত্বপূর্ণ আসন হিসেবে পরিচিত শৈলকুপা উপজেলা নিয়ে ঝিনাইদহ-১ নির্বাচনী এলাকা গঠিত। কুমার, গড়াই, কালিগঙ্গা নদী বিধৌত ৩৭২.৬৬ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে শৈলকুপা উপজেলায় রয়েছে ২৮৯ টি গ্রাম ১৪ টি ইউনিয়ন ১ টি পৌরসভা। এখানে ভোটার সংখ্যা ৩২৫২৭৮ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১৬২২৭৭ জন পুরুষ ভোটার ১৬৩০০১ জন।
বিগত ১২ টি জাতীয় নির্বাচনে এ আসন থেকে বিএনপি ৩ বার আওয়ামীলীগ ৭ বার এবং জাসদ থেকে ২ বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। বিগত ১২ টি নির্বাচনের মধ্যে ১৯৯১ সালের ৫ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ১৯৯৬ সালের ৭ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০০১ সালের ৮ম জাতীয় সংসদ এবং ২০০৮ সালের ৯ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিদ্বন্দ্বীতামুলক ছিল। এই চারটি নির্বাচনে বিএনপি আওয়ামীলীগের মধ্যে মুল প্রতিদ্বন্দ্বীতা হয়। ১৯৯১ এবং ৯৬ সালে বিএনপি এবং ২০০১ এবং ২০০৮ সালে আওয়ামীলীগ প্রার্থী বিএনপির অভ্যন্তরীন দ্বন্দ্বের কারনে সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করে। এবার বিএনপিতে কোনো দ্বন্দ্ব সংঘাত নেই। এবারের নির্বাচনে এ আসনে বিএনপির মুল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীরও কোনো শক্ত অবস্থান নেই। ১৯৯৬ সালের পর এ আসনে জামায়াতে ইসলামীর কোনো প্রার্থী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতা করেনি। এবার আওয়ামীলীগ মাঠে না থাকায় বিএনপি এবং জামায়াতের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বীতা হতে পারে এমন আশংকা সাধারণ ভোটারদের মাঝে। বিএনপি সমর্থকরা মনে করছেন বিএনপি প্রার্থী বিনা বাধায় বৈতরণী পার হবে। এ আসনে দলের চেয়ে প্রার্থীর যোগ্যতা ভোটারদের কাছে প্রাধান্য পাচ্ছে বেশী। যেকারনে বিএনপির মূল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী ঘরানার ভোটাররাও ধানের শীষে ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়নে শরীক হতে চান। আওয়ামী ঘরানার বেশকিছু ভোটারের সাথে কথা বলে জানা গেছে বিগতদিনের তুলনায় গত ১৭ মাসে সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল আসাদুজ্জামান এর কল্যাণে এ উপজেলায় অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়েছে। ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে সারাদেশে আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের ওপর জুলুম নির্যাতন হলেও শৈলকুপা উপজেলায় কারোর কোনো ক্ষতি, কোনো স্থাপনা ভাংচুর হতে দেননি সাবেক অ্যাটর্নী জেনারেল আসাদুজ্জামান। এ উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন। এবার উপজেলার মানুষ একজন সত্যিকার জনপ্রতিনিধি হিসেবে আসাদুজ্জামানকে ভোট দিয়ে এলাকার শান্তি ও উন্নয়নের ধারা অব্যাহত রাখতে চান। সে কারনে বিভিন্ন নির্বাচনী জনসমাবেশে স্থানীয় আওয়ামীলীগের নেতাকর্মী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক, বর্তমান চেয়ারম্যান, মেম্বররা স্বতস্ফুর্ত অংশগ্রহণ এবং কর্মীদের ধানের শীষে ভোট দিতে উদ্বুদ্ধ করছেন। অপরদিকে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকরা মনে করছেন এবার ভোটে নিরব বিপ্লব হবে। তরুণ ও মহিলা ভোটাররা জামায়াতে ইসলামীর দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাদের প্রার্থীকে জয়ী করবে। বিএনপির মুল প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামীলীগের ভোটাররাও ভোট দেবে দাঁড়িপাল্লায়।
এ আসনে মোট ৫ জন প্রার্থী ভোটযুদ্ধে রয়েছেন বিএনপি মনোনীত (ধানের শীষ প্রতীকের) প্রার্থী মো. আসাদুজ্জামান, জামায়াতে ইসলামী মনোনীত (দাঁড়ি পাল্লা প্রতীকের) এ এস এম মতিউর রহমান, জাতীয় পার্টি মনোনীত (লাঙল প্রতীকের) প্রার্থী মনিকা আলম, এবি পার্টি মনোনীত (ঈগল পাখি প্রতীকের) মো. মতিয়ার রহমান ও কমিউনিস্ট লীগ মনোনীত (কাঁচি প্রতীকের) প্রার্থী সহিদুল এনাম পল্লব মিয়া।
Leave a Reply