1. shobujsk1990@gmail.com : Sobuj :
April 16, 2026, 12:31 pm
শিরোনাম:
একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জুলাই আন্দোলনের পর বন্ধ সৈয়দ মাসুদ রুমী সেতুর টোল,পুনরায় চালুর ইঙ্গিত হিউম্যান রাইটস অ্যালাইভ এর কমিটি ঘোষণা গোপালগঞ্জ থেকে সরাসরি ঢাকা ট্রেন চালুর দাবি কুষ্টিয়া জেলা যুবলীগের কমিটি নিয়ে নেতা-কর্মীদের অসন্তোষ, সামাজিক মাধ্যমে সমালোচনার ঝড় কাশিয়ানীতে প্রতারক চক্রের ফাঁদে পড়ে দিশেহারা লাভলী বেগম, থানায় অভিযোগ সাবেক মন্ত্রী কামরুলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ ট্রাইব্যুনালের টুঙ্গিপাড়ায় ফিলিং স্টেশনে গ্রাহক ভোগান্তি শীর্ষে স্বাধীনতা দিবস ও কিছু কথা টুঙ্গিপাড়ায় বিষপানের ১১ দিন পর গৃহবধূর মৃত্যু

তবুও টিকে থাকে হাজারো সংসার?

  • আপডেটের সময়: Saturday, February 14, 2026
  • 125 Time View

সংসার সুখী হয় রমণীর গুণে’- পুরোনো এই প্রবাদ এখনকার যুগে কতটা খাটে, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। কিন্তু আধুনিক সম্পর্কের সমীকরণে বড় একটি প্রশ্ন চিহ্নের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে ‘আবেগহীনতা’।

প্রশ্নটি সহজ কিন্তু গভীর- একজন মানুষের চোখের দিকে তাকিয়ে যদি ‘প্রেম প্রেম’ ভাবই মনে না জাগে, তবে কোন টানে মানুষ বছরের পর বছর সংসার করে যায়? এটি কি কেবল সামাজিক দায়বদ্ধতা, নাকি অভ্যাসের মায়া?

চোখ হলো মনের আয়না। সম্পর্কের শুরুতে যে মুগ্ধতা থাকে, সময়ের ব্যবধানে অনেকের ক্ষেত্রেই তা ফিকে হয়ে আসে। রাজধানীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সায়মা (ছদ্মনাম) বলছিলেন তার দীর্ঘ ১০ বছরের দাম্পত্য জীবনের কথা। ‘সকালে নাস্তা বানানো থেকে শুরু করে রাতে ঘুমানোর আগে পরের দিনের পরিকল্পনা- সবই চলছে ঘড়ির কাঁটায়। কিন্তু ওর চোখের দিকে তাকালে এখন আর সেই পুরনো শিহরণ জাগে না। মাঝেমধ্যে মনে হয়, আমরা কি শুধু একটা চুক্তিতে আবদ্ধ?’

সংসার কি তবে কেবলই দায়িত্ব?

বিগত কয়েক বছরে ঢাকাসহ সারা দেশে বিবাহ বিচ্ছেদের হার বেড়েছে আশঙ্কাজনকভাবে। সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের প্রত্যাশা এখন অনেক বেশি। আগেকার দিনে ‘মানিয়ে নেওয়া’ ছিল সম্পর্কের মূল ভিত্তি। কিন্তু বর্তমান প্রজন্মের কাছে ‘আত্মতৃপ্তি’ বা ‘ইমোশনাল কানেকশন’ অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

সংসার শুধু ভালোবাসা দিয়ে চলে না, এটা সত্য। কিন্তু ভালোবাসাহীন সংসার হলো ছাদহীন ঘরের মতো। রোদ-বৃষ্টি থেকে বাঁচা গেলেও শান্তি মেলে না। অনেক ক্ষেত্রে সন্তান, আর্থিক নিরাপত্তা বা লোকলজ্জার ভয়ে মানুষ সম্পর্ক টিকিয়ে রাখে। তখন চোখের দিকে তাকিয়ে প্রেমের চেয়ে বেশি দেখা যায় ক্লান্তি আর আপোষ।

অনেকের মতে, দীর্ঘ সময় একসঙ্গে থাকতে থাকতে প্রেম রূপ নেয় অভ্যাসে। সেই অভ্যাসের টানেই মানুষ অসুস্থতায় পাশে থাকে, বিপদে আগলে রাখে। সেখানে হয়তো কবিতার মতো প্রেম নেই, কিন্তু পাহাড়ের মতো নির্ভরতা আছে। তবুও প্রশ্ন থেকেই যায়- যে চোখে তাকিয়ে হৃদস্পন্দন বাড়ে না, সেই চোখের দিকে তাকিয়ে সারাজীবন পার করে দেওয়াটা কি এক ধরণের আত্মপ্রবঞ্চনা নয়?

চোখের মায়া হারিয়ে যাওয়া মানেই সম্পর্কের শেষ নয়। অনেক সময় একঘেয়েমি সম্পর্কের রঙ শুষে নেয়। একে পুনরুজ্জীবিত করতে প্রয়োজন- পরস্পরের সাথে কোয়ালিটি টাইম কাটানো, দায়িত্বের বাইরেও নিজেদের শখের বিষয় নিয়ে কথা বলা, একে অপরের ছোট ছোট অর্জনে প্রশংসা করা।

ভোট শেষে কর্মব্যস্ত ঢাকায় যেমন মানুষ ফিরছে যান্ত্রিক জীবনের তাগিদে, তেমনি অনেক সংসারও টিকে আছে কেবল প্রয়োজনের তাগিদে। তবে দিনশেষে মানুষের মন একটুখানি বাড়তি মমতা আর চোখের ভাষায় প্রেম খোঁজে। কারণ, শুধু খেয়ে-পরে বেঁচে থাকার নাম তো আর জীবন নয়, জীবনের সার্থকতা লুকিয়ে থাকে সেই মায়াবী দৃষ্টির গভীরতায়।

শেখ সবুজ আহমেদ
সাংবাদিক ও কলামিস্ট

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2026 S.S Media Limited
Theme Customized By Unkwon