কুমারখালী প্রতিনিধি,(কুষ্টিয়া):
কুষ্টিয়া জেলার কুমারখালী উপজেলার যুবদল নেতা এ্যাড: জাকারিয়া মিলনের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ কুমারখালী’র সাধারণ জনগণ। জানা যায়, উপজেলার গড়াই নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মূল হোতা এই যুবদল নেতা জাকারিয়া মিলন। এতে নদী পাড়ের মানুষের স্বাভাবিক জীবন যাপন ও বালু বোঝাই ট্রাক গুলোর বেপরোয়া চলাচলে ব্যাঘাত ঘটছে সাধারণ মানুষের জীবন যাপনে। প্রতিনিয়তই বালু বোঝাই ট্রাক গুলোর অস্বাভাবিক গতির কারণে দুর্ঘটনা লেগেই আছে। শুধু বালু মহল নিয়ন্ত্রণেই নয় উপজেলার বিভিন্ন সিএনজি স্ট্যান্ড, সরকারি অফিসগুলোর নিয়ন্ত্রণ, সহ সকল প্রকার ঠিকাদারি ও টেন্ডারবাজিতে একক আধিপত্য বিস্তার করছে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক এর পুত্র কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহবায়ক এ্যাড: জাকারিয়া মিলন।
জানা যায়, বাবা একজন প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হওয়ায় ছোটবেলা থেকেই বেপরোয়া জীবন যাপন শুরু হয় এ্যাড: জাকারিয়া মিলনের কিন্তু আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় এলে মিলন বিদেশ পারি দেয় এবং দীর্ঘদিন বিদেশে বসবাস করে। কিন্তু গত বছরের ৫-ই আগস্টে সরকার পরিবর্তন হলে মিলন আবার দেশে চলে আসে। এবং রাজনীতিতে কোন ত্যাগ বা নির্যাতনের শিকার না হয়ে ও রাজনীতিতে কোন দৃশ্যমান অবদান না থাকলেও কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে আতাত করে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে বাবাকে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক ও নিজে কুমারখালী উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক পদ’টি বাগিয়ে নেয়। আর এতেই ক্ষোভে – ফুঁসে ওঠে দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের নেতৃত্ব দেওয়া ত্যাগী ও নির্যাতনের শিকার হওয়া কর্মীরা।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক যুবদল নেতা জানান, এ্যাড: জাকারিয়া মিলন দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিল কোন আন্দোলন সংগ্রামে তার কোন উপস্থিত ছিল না এবং তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রক্ষার্থে তার বাবা আলহাজ্ব নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক সব সময় আওয়ামী লীগের নেতাদের সঙ্গে আতাত করে চলেছে। এবং নৌকায় ভোট দেওয়ার জন্য আওয়ামী লীগের সময় নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক তার সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছে। শুধু তাই নয় কিছুদিন আগেও তার বাসার দারোয়ান যে কিনা আওয়ামী লীগ সমর্থিত এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দায়িত্বে আছে তাকেও বিএনপি’র গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তারা টাকার বিনিময়ে এমন কোন কাজ নেই যে কাজ তারা করেনি। এ্যাড: জাকারিয়া মিলন কুমারখালীতে তার নিজস্ব একটি বাহিনী গড়ে তুলেছে আর তাদের বাবা-ছেলের বিরুদ্ধে যারা কথা বলবে তাদেরকে তুলে নিয়ে এসে ব্যাপক নির্যাতন চালাতে থাকে। এজন্য তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে নারাজ। আর সব থেকে বড় বিষয় যেটি তা হলো তাদের বাবা-ছেলের শক্তির প্রধান উৎস কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার এবং তাকে টাকা দিয়ে সব সময় ম্যানেজ করা হয়। কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলন ২/১দিনের মধ্যে এখানে অনেক প্রার্থী থাকলেও নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছে তিনি যেটা বলবে সেটাই হবে। তার মানে বোঝা যায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক’ কে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি পদে আগেই সিলেকশন করে রেখেছে। এবং লকো মুখেও শোনা যাচ্ছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে বাবা – ছেলের মোটা অংকের অর্থের চুক্তি হয়েছে।
কুমারখালী উপজেলাতে বাবা-ছেলের একক আধিপত্য ও অসৎ রাজনীতির কারণে বিপাকে পড়েছে সৎ ও নিষ্ঠার সঙ্গে রাজনীতি করে আসা ব্যক্তিরা।
Leave a Reply