পংকজ দে,নিজস্ব প্রতিবেদক:
সভ্যতার পরিবর্তনের সাথে সাথে আমরা আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক জীবনে পদার্পণ করছি। বাড়ছে প্রযুক্তির ব্যবহার সেই সাথে বাড়ছে ইলেকট্রনিক পণ্য উৎপাদন,, বিক্রি এবং ব্যবহার।
যতই ইলেকট্রনিক পন্যের ব্যবহার বাড়ছে ততই বাড়ছে ইলেকট্রনিক বর্জ্য। যত্রতত্র এই ইলেকট্রনিক বর্জ্য হূমকীর মুখে ফেলছে জীব জগতকে।
মূলত ইলেকট্রনিক বর্জ্য ( ই -বর্জ্য) হলো ফেলে দেওয়া বা অব্যবহৃত বৈদ্যুতিক ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম যেমন – মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, টিভি, ফ্রিজ,এসি, বাল্ব , ব্যাটারি।
এই ইং -বর্জ্য থেকে নির্গত গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড,মিথেন,ডাই অকসিন, সীসা, ক্যালসিয়াম,পারদ ও অন্যান্য বিষাক্ত গ্যাস যা বায়ু দূষণ করে জলজ পরিবেশের ক্ষতি করে এবং মাটি ও পানি দূষণ করছে। ভূমিকা রাখছে জলবায়ু পরিবর্তনে।
আর এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাড়ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগ বন্যা,করা, অতিবৃষ্টি, অনাবৃষ্টি। বাড়ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে,গলছে হিমবাহ।
বিনষ্ট হচ্ছে খাদ্য শৃঙ্খল, ধ্বংস হচ্ছে জলজ প্রাণী, ভারসাম্য হারাচ্ছে প্রাকৃতিক পরিবেশ।
ইলেকট্রনিক বর্জ্যের কারণে উদ্বিগ্ন পরিবেশ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে,সঠিকভাবে ইলেকট্রনিক বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশ সম্মত উপায়ে রিসাইকেল করতে পারলে তা সম্পদ রূপান্তর সম্ভব হবে।
এপ্রসঙ্গে ই -বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ ড.মো. সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া বলেন,ই- বর্জ্য সংগ্রহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।কী উপায়ে এটা সংগ্রহ হবে তার সঠিক রুপ রেখা প্রণয়ন জরুরী।এক্ষেত্রে যাঁরা ইলেকট্রনিক্স পণ্য উৎপাদন করে কিংবা যারা আমদানি করে তারাই বড় সোর্স। তাদের থেকে সঠিক উপায়ে ই- বর্জ্য সংগ্রহ করতে হবে। এছাড়া বাসা বাড়ি শিল্প ও বানিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে যে বর্জ্য তৈরি হবে সেটা ও পরিকল্পিত উপায়ে সোর্স থেকেই আলাদা করে সংগ্রহ করা জরুরী। এরপর বর্জ্য প্লান্টে এনে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পরিবেশের ক্ষতি না করে রিসাইকেল করতে হবে।
যদি এ দুটি মৌলিক বিষয়ে ঘাটতি থাকে তাহলে ই- বর্জ্য নিয়ে আমাদের যত বড় উদ্দ্যোগ নেওয়া হোক সফল হবে না।
বাংলাদেশের গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর হাইটেক পার্কে এই প্রথম নির্মিত হতে যাচ্ছে ই- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্লান্ট। এ জন্য প্রাথমিকভাবে ব্যয় হবে প্রায় ৩০০; কোটি টাকা। পরিবেশ সংক্রান্ত বিষয়ে সরকারের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য বিশ্ব ব্যাংকের অর্থায়নে বাংলাদেশ এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি এ্যান্ড ট্রান্সফরমেশন (বেস্ট) নামে একটি প্রকল্পের কাজ চলমান।
ই- বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জিং বিষয়। ২০৩০ সালে বাংলাদেশে ই- বর্জ্যের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ১৬ লাখ টন। কিন্তু বাংলাদেশে এখনো ই- বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পূর্নাঙ্গ রিসাইকেলিং সিস্টেম গড়ে ওঠেনি। সঠিকভাবে ই -বর্জ্য সংগ্রহ ও পরিবেশ সম্মত উপায়ে রিসাইকেল করতে পারলে তা সম্পদে রুপান্তর সম্ভব হবে।
দূষণ কমবে বাংলার মাটি, পানি ও বায়ুর। কিছুটা হলেও দূষণ মুক্ত পরিবেশ পাবে আমাদের আগামী প্রজন্ম।
Leave a Reply