পংকজ দে,নিজস্ব প্রতিবেদক:
রস থেকে রাস শব্দের উৎপত্তি।রাস হচ্ছে শ্রী কৃষ্ণের সর্বোত্তম মধুর রস।আর লীলা মানে খেলা। অর্থাৎ রাস লীলা মানে শ্রী কৃষ্ণ, শ্রী রাধা ও তাদের সখী সাথীদের লীলা খেলা।
শ্রী কৃষ্ণের ব্রজ লীলার অনুকরণে বৈষ্ণবীয় ভাবধারার অনুষ্ঠিত ধর্মীয় উৎসব। রাজা কৃষ্ণচন্দ্রের এবং গিরীশ চন্দ্রের সময়ের পরবর্তীকালে বাংলায় রাস উৎসবের বহুল প্রচলন ঘটে রাধা কৃষ্ণের আরাধনাই মূল বিষয় হলেও অঞ্চলভেদে ভিন্ন ভিন্ন রীতিতে রাস উৎসব পালিত হয়।

পঞ্জিকামতে, পূর্ণিমা তিথি ৪ নভেম্বর ২০২৫ মঙ্গলবার, ক্যালেন্ডার অনুসারে কার্তিক মাসের মাসের ১৮ তারিখ রাত ১০ টা ৩৮ মিনিটে শুরু হবে রাস পূর্ণিমার তিথি। পূর্ণিমা তিথি শেষ হবে ১৯ কার্তিক বুধবার সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৯ মিনিটে।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণের রসপূর্ণ অর্থাৎ তাত্ত্বিক রসের সমৃদ্ধ কথা বস্তুকে রাস্যাত্রার মাধ্যমে জীব আত্নার থেকে পরম আত্মায় দৈনন্দিন জীবনের সুখানুভূতিকে আধ্যাত্মিকতায় এবং কাম প্রবৃত্তিকে প্রেম প্রকৃতিতে প্রদান করে অংকন করা হয়েছে।
মনিপুরীদের সব চেয়ে বড় উৎসবের নাম রাস পূর্ণিমা। শ্রী কৃষ্ণের রাস লীলা অনুকরণে বাংলাদেশে প্রায় দেড়শ বছর ধরে পালিত হয়ে আসছে রাস পূর্ণিমা।

মনিপুরী সমাজে রাস নৃত্য আবার ছয়টি ভাগে ভাগ করা হয় এগুলো হলো মহারাস, বসন্ত রাস,নিত্য রাস, কুঞ্জ রাস,গোপী রাস,ও উদুখল রাস।
রাস পূর্ণিমার রাস লীলা উৎসবের শুরুটা হয় গোষ্ঠ লীলা বা রাখাল নৃত্য দিয়ে।এ নৃত্য হয় সকালে।যারা রাখাল নৃত্য করে তারা প্রথমে মন্ডপে গোল হয়ে গোপী ভোজন করে।গোপী ভোজন হলো বিভিন্ন সবজি দিয়ে রান্না করা তরকারি ও ভাত।এ খাবার খেয়েই রাখাল নৃত্য শুরু করে শিল্পীরা।
সন্ধ্যার পর শুভ হয় রাস পূর্ণিমার রাস লীলা বা রাস নৃত্য।রাস নৃত্য পরিবেশন করে কুমারী মেয়েরা।

রাস লীলা উৎসবটি এখন নির্দিষ্ট এলাকায় সীমাবদ্ধ নেই । এই উৎসবটি এখন সার্বজনীন হয়ে উঠেছে।
ভক্তের ভক্তিতে সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপিনীদের মানব জীবনের পরমঅর্থ বুঝিয়ে দিয়ে তাদের অন্তর পরিশুদ্ধ করেন।
Leave a Reply