শেখ সবুজ আহমেদ:
পূজো শেষ মানে আনন্দও শেষ। দেবীদুর্গাকে বিদায় জানাতে মন খারাপ ও চোখের জল নয়, হাসি মুখে সিঁদুর খেলা হয়। সিঁদুর খেলার আক্ষরিক অর্থ হচ্ছে সিঁদুর নিয়ে খেলা। বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বী মহিলারা বিজয়া দশমীর দিন দুর্গাকে বিদায় জানানোর আগে সিঁদুর খেলেন।
বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাদশমী ও বিসর্জনের দিন। সকাল থেকেই মণ্ডপে মণ্ডপে দেবীর পায়ে সিঁদুর ছোঁয়ার পর শুরু হয় ভক্তদের সিঁদুর খেলা। এরপর বিকেলে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানানো হবে।
দশমী তিথিতে বাংলাদেশের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলার উৎসবমুখর পরিবেশ দেখা যায়। সকাল থেকেই প্রতিটি পূজামণ্ডপে আগত দর্শনার্থীদের বাহারি রঙের সাজসজ্জা চোখে পড়ে। তারা দল বেঁধে, আবার অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে মণ্ডপে মণ্ডপে দেবী দর্শন ও সিঁদুর খেলায় যোগ দেন।
সকাল দশটার পর থেকে দর্শনার্থী ও ভক্তরা বিভিন্ন পূজামণ্ডপে হাজির হতে শুরু করেন। তারা দেবীর পায়ে সিঁদুরের ছোঁয়া লাগান। পরে সিঁদুর খেলায় মেতে ওঠেন। নারীরা থালায় সিঁদুর নিয়ে একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর লাগান। কেউ কেউ সিঁদুর খেলার ছবি ও সেলফি তুলতেও ব্যস্ত ছিলেন।
বিজয়া দশমীর দিনে সিঁদুর খেলাসহ অন্যান্য কার্যক্রম পালন করা হচ্ছে। সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসব উপভোগ করছি। সিঁদুর খেলার রীতি বেশিরভাগ সময় পূজা মন্ডপে পালন করা হলেও অনেকে নিজেদের ঘরেই সিঁদুর খেলে থাকেন।
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে কথা হয় স্মৃতি সেন, দোলন দাশ ও তন্নি দাশের সঙ্গে। তারা জানান, বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দুর্গা মাকে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরকে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। এই সিঁদুর মাখিয়ে দুর্গা মাকে বিদায় জানানো হয়। দুর্গা মাকে নিয়ে যাওয়ার আগে সিঁথিতে সিঁদুর মাখানোর পর আঙুলে লেগে থাকা বাকি সিঁদুর তারা একে অপরের মুখে মাখেন।
মন্দিরের বলেন, আমাদের মণ্ডপে বেলা ১১টার দিকে সিঁদুর খেলা শুরু হয়। চলে দুপুর পর্যন্ত। বিকেলে দেবীদুর্গাকে বিসর্জন দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় অপরাজিত ধারণ করা হবে।
সিঁদুর খেলার এই প্রথাটি একটি নির্দিষ্ট সময় ও নিয়ম মেনে করা হয়। ধর্মীয় বিশ্বাসের মধ্য দিয়ে সিঁদুর খেলা সৌভাগ্য ও স্বামীদের দীর্ঘায়ু বয়ে আনে বলে তিনি জানান।
Leave a Reply