1. shobujsk1990@gmail.com : Sobuj :
June 4, 2026, 8:19 pm
শিরোনাম:
হাইওয়ে সড়কে অটোরিকশা-ইজিবাইক চলাচলের নিষেধাজ্ঞা ঈদের ছুটি শেষ হলেও নিজ কার্যালয়ে অনুপস্থিত কর্মকর্তা থামলো রাজপথ কাঁপানো এক কিংবদন্তির কণ্ঠস্বর শহীদ জিয়ার ‘আত্মবিশ্বাস’ই ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও পরবর্তী নেতৃত্বের মূল শক্তি: রবিন রায়হান জসিম পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ শরিফুল ইসলাম পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন আরিফুল ইসলাম নয়ন পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন মোঃ সাইদুল ইসলাম পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন আলহাজ্ব সিকদার ওয়াহিদুজ্জান ইকু পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন শামীম আহমেদ বাবু পবিত্র ঈদ-উল আযহার শুভেচ্ছা জানালেন বাবুল আখতার

কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে বহু আগে তবুও সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার ওজন ভারী

  • আপডেটের সময়: Wednesday, September 17, 2025
  • 611 Time View

নিজস্ব প্রতিবেদক,ঢাকা:
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র দুই সদস্য বিশিষ্ট আংশিক আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। এবং একই বছরের ৪ নভেম্বরে আরেকটি বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র ৩১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে কমিটির মেয়াদ উল্লেখ না থাকলেও কমিটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান আহবায়ক কমিটির মেয়াদ তিন মাসের জন্য ছিলো।

তিন মাসের জন্য কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও তা এখন এক বছর হতে চলেছে। এ নিয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের মাঝে উদ্বেগ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির শীর্ষ দুই নেতা আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের একের পর এক বিতর্কিত কর্মকান্ড ও কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগ ইতিমধ্যে বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যম সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। এবং কমিটির এই এক বছর মেয়াদ কালে বিভিন্ন সময়ে জেলা বিএনপি’র পদবঞ্চিত নেতৃবৃন্দ সহ সাধারণ নেতাকর্মীরা মেয়াদ উত্তীর্ণ “আহবায়ক কমিটি” এবং কমিটির শীর্ষ দুই নেতা আহবায়ক ও সদস্য সচিবের বিরুদ্ধে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপিতে বিভিন্ন সময়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা ও দীর্ঘ ১৬ বছর তৎকালীন সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দেওয়া একাধিক নেতা ও কর্মীরা বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র বর্তমান আহ্বায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতি, কমিটি বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি, সহ চরমপন্থীদের আশ্রয়দাতা হিসেবে অভিযোগ তুলেছে। যার প্রমাণ পাওয়া যায় কুষ্টিয়া সদর আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ন সাধারন সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফ এর ক্যাডার হিসেবে পরিচিত ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের আলোচিত চরমপন্থী সংগঠন গণমুক্তি ফৌজের শীর্ষ নেতা জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটন গত বছরের ৫-ই আগস্টে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে তৎকালীন সরকার ক্ষমতা হারালে অনেক এমপি-মন্ত্রীদের মত কুষ্টিয়ার একসময়ের স্বঘোষিত সম্রাট সাবেক সংসদ সদস্য মাহাবুবুল আলম হানিফ বিদেশ পালিয়ে যায় এবং এরপরে আলোচিত চরমপন্থী নেতা ও জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটন কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের হাত ধরে বিএনপিতে পদার্পণ করে। কিন্তু অন্তবর্রর্তীকালীন সরকারের নির্দেশনায় সারাদেশে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, এবং সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে যৌথ বাহিনী সারাদেশে অভিযান ডেবিল হান্ট শুরু করে এবং এই অভিযানে ৬টি বিদেশি অস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গলাবারুদ সহ যৌথ বাহিনীর কাছে গ্রেপ্তার হয় চরমপন্থী নেতা জাহাঙ্গীর কবির ওরফে লিপটন সহ তার আরো তিন সহযোগী। তবে এদেরকে রক্ষা করতে মরিয়া হয়ে ওঠে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। এ বিষয়টি সে সময় জেলার বিভিন্ন মহল থেকে শোনা যায় এবং জনপ্রিয় টেলিভিশন “দেশ টিভি”তে একটি প্রতিবেদন প্রচার হয়। দেশ টিভিতে প্রচারিত প্রতিবেদনে উল্লেখ ছিলো লিপটন গ্রেপ্তারের অভিযানের পর যৌথ বাহিনী পক্ষ থেকে প্রেস কনফারেন্স এর মাধ্যমে বলা হয় লিপটনের কাছ থেকে ৬টি বিদেশী পিস্তল,১টি লং ব্যারেলগান,১০টি ম্যাগাজিন, ১৪০টি গুলি সহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। কিন্তু কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার চরমপন্থী নেতা লিপটনকে বাঁচাতে তার রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কুষ্টিয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে চাপ প্রয়োগ বা বিভিন্নভাবে ম্যানেজ করে মামলার এজাহারে লিপটনের কাছ থেকে উদ্ধারকৃত বিদেশি অস্ত্র ও গোলাবারুদ সহ দেশীয় অস্ত্র গুলো লিপটন নয় তার সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া যায় এমনটিই এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছিলো। আর এ বিষয়টি প্রকাশ হলে কুষ্টিয়া জেলার রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে শুরু করে দেশের বিভিন্ন মহলে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। কিন্তু সে সমস্ত সমালোচনায় কান না দিয়ে একের পর এক বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে বিশেষ ভূমিকা রাখতে দেখা যায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে। জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির ৩১ জন সদস্যদের মধ্যে অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, কমিটিতে নাম থাকলেও সাংগঠনিক কোনো কর্মকান্ডে আমাদের সিদ্ধান্ত বা মতামতের কোন প্রয়োজন মনে করে না আহবায়ক ও সদস্য সচিব তারা তাদের ইচ্ছেমতো সাংগঠনিক কর্মকান্ড পরিচালনা করে।

কুষ্টিয়া জেলায় ৬টি উপজেলা, ৫টি পৌরসভা এবং ৬৬টি ইউনিয়ন আছে। কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির প্রধান কাজ ছিলো সম্মেলন বা কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রত্যেকটি উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন সহ প্রত্যেকটা ওয়ার্ডে বিএনপি’র দুঃসময়ে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা ও ক্লিন ইমেজ বা জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা দলীয় ব্যক্তি এবং সাধারণ কর্মীদের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের দ্বারা কমিটি গঠন করা। কিন্তু তৃণমূলের বিভিন্ন নেতাকর্মী ও জেলা বিএনপি’র সাবেক নেতৃবৃন্দ সহ বর্তমান আহবায়ক কমিটির অনেকের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা যায়, জেলার ৬টি উপজেলার মধ্যে এখনো একটি উপজেলাতে সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়নি তবে জানা যায় খুব শীঘ্রই সম্মেলন বা কাউন্সিলের মাধ্যমে কমিটি ঘোষণা করা হবে। কিন্তু বাকি উপজেলা গুলোতে ঘটা করে সম্মেলন বা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হলেও অনিয়মের অভিযোগ শোনা যায় কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে। এমন অভিযোগ শুধু উপজেলা গুলোতেই নয় এখনো জেলার বেশ কয়েকটি পৌরসভা, অধিকাংশ ইউনিয়ন সহ ওয়ার্ড গুলোতে সম্মেলন বা কাউন্সিল করতে ব্যর্থ জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি। তবে জেলার যে কয়টি পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড গুলোতে সম্মেলন বা কাউন্সিলে নির্বাচনের মাধ্যমে দলীয় কর্মীদের ভোটের ব্যবস্থা থাকলেও নির্বাচন নিয়ে রয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। প্রার্থীরা অভিযোগ তুলেছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ভোট কাঁট-চুপির মাধ্যমে নিজেদের প্রার্থীদের বিজয়ী করেছে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক ও সদস্য সচিব। এই অভিযোগের সত্যতা মিল পাওয়া যায় কুষ্টিয়া সদর পৌর বিএনপি’র নির্বাচনে। নির্বাচনের দিন প্রথম থেকেই নির্বাচন নিয়ে অভিযোগ তুলে কুষ্টিয়া সদর পৌর বিএনপি’র সভাপতি প্রার্থী বিএনপি নেতা কাজল মাজমাদার এবং নির্বাচনে তার পরাজয় ঘটে ও নির্বাচিত হয় আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের মনোনীত প্যানেলের প্রার্থী এ কে বিশ্বাস বাবু। এই নির্বাচনের ফলাফল কে প্রত্যাহার করে বিএনপি নেতা কাজল মাজমাদার গণমাধ্যমের সামনে নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ তুলেছিলো এবং বলেছিলো এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে মোটা অংকের লেনদেন হয়েছে প্রার্থীদের সঙ্গে আহবায়ক ও সদস্য সচিবের। পরবর্তীতে তার এই অভিযোগ সত্যতা প্রমাণিত হয়, নির্বাচনে দুর্নীতির প্রসঙ্গে পরাজিত প্রার্থী কাজল মাজমাদার একটি সংবাদ সম্মেলন করে এবং সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন সময়ে জেলার কর্মরত বিভিন্ন সাংবাদিকদের কাছে খবর আসে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে নির্বাচন অনুষ্ঠিত কেন্দ্রের পাশ থেকে পরিত্যাক্ত এক ভবন থেকে বিপুল পরিমাণ ব্যালট পেপার টুকরো অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই সময়ই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় জেলার সংবাদকর্মীরা সহ পরাজিত প্রার্থী কাজল মাজমাদার এবং ঘটনাস্থলে দেখা যায় সিল মারা ব্যালট পেপার গুলো চেয়ার মার্কা প্রতিকের যা কাজল মাজমাদারের প্রতিক ছিলো। এ বিষয়ে সে সময় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সাবেক সহসভাপতি বশিরুল আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, এই চুরির ভোটের কারণে আগামী নির্বাচনে আমাদের ওপর জনগণের বিরূপ ধারণা তৈরি হবে।
কুষ্টিয়া সদর পৌর বিএনপি’র নির্বাচনে শুধু এমন অভিযোগ বা ভোট কাঁট-চুপির তথ্যের সত্যতা প্রকাশ পেলেও থেমে নেই জেলা বিএনপি’র শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে স্বজন প্রীতি, কমিটি বাণিজ্য সহ বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের অভিযোগ। সরজমিনে গিয়ে জেলা ও উপজেলা সহ বিভিন্ন ইউনিয়নে বিএনপি’র নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে বিভিন্ন অভিযোগের পর্যালোচনা করে জানা যায় বা সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির মেয়াদ উত্তীর্ণ হলেও অদৃশ্য শক্তির বলে ১ বছর কমিটি অতিবাহিত হলেও এখনো জেলার বেশিরভাগ ইউনিয়ন সহ অনেক ওয়ার্ড গুলোতে এখনো কমিটি দেওয়া হয়নি। তবে উপজেলা থেকে শুরু করে পৌর, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোতে যে কমিটি দিয়েছে তার বেশির ভাগ’ই সম্মেলন, কাউন্সিল ও নির্বাচন বাদেই দায়িত্বপ্রাপ্তদের সিলেক্টেড করা হয়েছে। এ বিষয়ে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সদ্য সাধারন সম্পাদক লুৎফর রহমান প্রতিবেদক’কে বলেন, কুমারখালী উপজেলার প্রতিটা ইউনিয়ন ও ওয়ার্ডগুলোর কমিটি গঠন করা হয়েছে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের কুষ্টিয়ার মহিনী মিল পাড়ার অফিসে বসে। কোন ভোটের মাধ্যমে নয় সিলেক্টেড এর মাধ্যমে এবং যাদেরকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে তাদের লোকদের কাছ থেকে শোনা যাচ্ছে, সভাপতি পদে এত টাকা লেগেছে, সাধারণ সম্পাদক পদে এত টাকা লেগেছে এমনটি তথ্যই আমরা পেয়েছি। কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সদ্য সভাপতি নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা থাকাই প্রত্যেকটা ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন গুলোতে নিজেদের আত্মীয়-স্বজন, বাড়ির কাজের লোক ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে আওয়ামী লীগের বর্তমান চলমান কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা ব্যক্তিদেরকেও ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ বসিয়েছে। এবং ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সমর্থিত গ্রুপ শক্তিশালী করার জন্য মৃত ব্যক্তির নামে সভাপতি পদের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখেছে শুধু কমিটি নিজেদের হাতে রাখার জন্য।

এ মাসের ৫ – সেপ্টেম্বরে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এ সম্মেলনেও নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক প্রশ্নবিদ্ধ বা বিতর্কিত হয় যা ইতিমধ্যে বিভিন্ন আঞ্চলিক ও জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয় এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভোটার ও প্রার্থীদের অভিযোগের ভিডিও ভাইরাল হয়। এ বিষয়ে জানা যায়, সম্মেলনের প্রথম অধিবেশন শেষ হলে দ্বিতীয় অধিবেশন ভোট গ্রহণ শুরু হলে ভোট দিতে গিয়ে ভোটাররা দেখে ভোটার লিস্টে অনেক ভোটারদের নাম নেই এবং কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী তিনিও ভোট দিতে গিয়ে দেখে ভোটার লিস্টে তার নাম নেই। পরবর্তীতে তাকে ভোট দেওয়ার ব্যবস্থা করে দেয় জেলা আহবায়ক কমিটির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। এ বিষয়ে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি প্রার্থী বিএনপি’র জনপ্রিয় নেতা যে কিনা আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালীন নির্বাচন নিয়ে বিভিন্ন বিতর্কিত থাকলেও আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনীত ও প্রভাবশালী প্রার্থীকে একাধিক বার নির্বাচনে হারিয়ে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হয়েছে যা সে সময় নির্বাচনের পরে প্রত্যেকবারই দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে তিনি কুমারখালী উপজেলার ১ নং পান্টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাফিজ রহমান। কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছেও তার জনপ্রিয়তা অনেক তবে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি প্রার্থী হিসেবে তিনি বর্তমান সদ্য সভাপতি নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক এর কাছে পরাজয় বরণ করে। কিন্তু তিনি ও নির্বাচন নিয়ে অনিয়মের প্রশ্ন তুলেছে এ বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটকেন্দ্রে ভোটারা ভোট দিতে গিয়ে দেখে ভোটার লিস্টে তাদের নাম নেই এটি পরিকল্পিতভাবে করা হয়েছে শুধু আমার সমর্থিত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিলো যার প্রমাণ সবাই পেয়েছে। জেলার সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে যোগ সূত্রে নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক আগের থেকেই পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে নিজের বাড়ির কাজের লোক, আত্মীয়-স্বজন ও তার পক্ষে থাকা আওয়ামী লীগের লোকদেরকে বিভিন্ন ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটিতে সভাপতি সাধারণ সম্পাদক পদে রেখেছিলো ভোটের কারণে নিজে সভাপতি হবে এ লক্ষ্যে। নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক এর মাধ্যমে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’তে আওয়ামী লীগের নেতাদের পূর্ণবাসন করেছে ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার। শুধু কুমারখালীতেই নয় জেলার প্রত্যেকটা জায়গাতে এই নামধারী বিএনপি নেতা নুরুল ইসলাম আনসার প্রামাণিক এর মত মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের এজেন্ট আছে আর তাদেরকে দিয়েই কুষ্টিয়াতে আওয়ামী লীগকে পূর্ণবাসন করেছে। এ বিষয়ে আমরা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি’র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ সহ সমস্ত ঘটনার সাক্ষ্য প্রমাণ দিয়েছি তবুও দল এদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
কুষ্টিয়া জেলার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা খোকসা উপজেলা এখানেও কমিটির নামে অর্থ বাণিজ্য সহ বিভিন্ন অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায়। খোকসা উপজেলায় দীর্ঘ ১৭ বছর তৎকালীন সরকারের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতাদের দ্বারা নির্যাতনের শিকার হওয়া এবং হামলা,মামলা নির্যাতনের শিকার হওয়া সত্বেও বিএনপি’র সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা পালন করা নেতাকর্মীদেরকে কমিটিতে না রেখে জেলার শীর্ষ দুই বিএনপি নেতার মনোনীত প্রার্থীদেরকে নিয়ে কমিটি করা হয়েছে। এবং ঘটা করে উপজেলা সম্মেলন করা হলেও নির্বাচন না করে জনপ্রিয়তা যাচাই-বাছাই না করে সিলেক্টেডের মাধ্যমে আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। তবে উপজেলা বিএনপি’র আংশিক কমিটি গঠন করা হলেও দলীয় নির্দেশনাকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই ওয়ার্ড,ইউনিয়ন কমিটি গঠন না করেই একলাফে সিলেক্টেডের মাধ্যমে উপজেলা বিএনপি’র আংশিক কমিটি ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে খোকসা উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনের দুইদিন আগে উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব (বর্তমান সাধারণ সম্পাদক) আনিসুজ্জামান স্বপন এর সঙ্গে মোবাইল ফোনে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি প্রতিবেদক’কে বলেন, জেলা আহবায়ক কমিটির নির্দেশে ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন বিএনপি’র কমিটি গঠন করা হবে।
খোকসা উপজেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক আনিসুজ্জামান স্বপনের সঙ্গে ফোনে কথা বলার সময় তার কথার বাচনভঙ্গিতে বোঝা যায় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের সঙ্গে বিশেষ সখ্যতা রয়েছে তার। এবং কৌশলে কথা বলার সময় তাকে প্রশ্ন করা হয় তাদের মনোনীত সিলেক্টেড কমিটিকে পছন্দ করবে কি না জেলার শীর্ষ দুই বিএনপি নেতা, প্রশ্নের উত্তরে আনিসুজ্জামান স্বপন বলে অবশ্যই করবে। এ থেকে বুঝতে আর বাকি থাকে না জেলা জুড়ে বিএনপি’র কমিটির নামে কোন এক এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে। আনিসুজ্জামান স্বপনের সঙ্গে কথা বলার পর তার সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করতে থাকি। এবং পরবর্তীতে জানা যায় জেলা বিএনপি’র শীর্ষ ২ নেতার সঙ্গে তার রয়েছে গভীর সম্পর্ক এবং এই গভীর সম্পর্কের কারণ জানা যায় খোকসা উপজেলা বিএনপি’র সাবেক এক নেতার কাছ থেকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তিনি বলেন, খোকসা উপজেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটি যখন ঘোষণা করা হয় সে সময় জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারকে ৯ লক্ষ টাকা কমিটির জন্য আনিসুজ্জামান স্বপন দেয় কুষ্টিয়ার এক অফিসে বসে। এ বিষয়ে পরবর্তীতে আনিসুজ্জামান স্বপন এর কাছে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি সম্পন্ন অস্বীকার করে।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র একাধিক কমিটি বাণিজ্য, দলীয় সাংগঠনিক নির্দেশনা ভঙ্গ ও বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড সম্পর্কে জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির আহবায়ক মোঃ কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার ফোন করলেও যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি কারণ কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কমিটির শীর্ষ এই দুই নেতার বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রচার করা হলে তারা প্রতিবেদকের সম্পর্কে বিভিন্ন অপপ্রচার ও হামলা, মামলার হুমকি দেয় এবং প্রতিবেদকের ফোন নাম্বারটি তাদের ফোনে ব্ল্যাক লিস্টে রেখে দেয়।

শুধু কমিটি বাণিজ্যের অভিযোগে অভিযুক্ত নয় কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র আহবায়ক কুতুব উদ্দিন আহমেদ ও সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জাকির হোসেন সরকার তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম সহ বিভিন্ন সংবাদ সম্মেলন, বিক্ষোভ মিছিল সহ একাধিক ব্যক্তি বিভিন্ন সময়ে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ তুলেছে। এবং এই মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি প্রসঙ্গে ও এই দুই শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে বিভিন্ন দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের বিষয়ে একাধিকবার দলের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিভাগীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দদের কাছে লিখিত ও মৌখিক অভিযোগ করলেও কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় হতাশ জেলার নেতাকর্মীরা। এবং গত ১৬ বছরে রাজপথে থাকা নেতৃত্ব দেওয়া নেতাকর্মীরা আজ প্রাপ্য সম্মানটুকু না পেয়ে শত অভিমানে রাজনীতি থেকে দূরে চলে যাচ্ছে।

এই পোস্টটি আপনার সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর
© All rights reserved © 2026 S.S Media Limited
Theme Customized By Unkwon