আমি অর্থনীতিবিদ না, কিন্তু গার্মেন্টস এর একজন ক্ষুদ্র কর্মী তাই লিখছি আমার দেশটা যখন ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে তখন না লিখে আর কিভাবে থাকি…? চুপ আর কত সময় থাকা যায়…?এবার আর চুপ থাকার জায়গা নেই।গত ১ বছর ৮ মাসে (প্রায়): ৪ লক্ষের বেশি গার্মেন্টস শ্রমিক বেকার,৩৫০+ কারখানা বন্ধ বা কার্যক্রম স্থগিত।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত:গাজীপুর,সাভার,নারায়ণগঞ্জ, চট্টগ্রাম।
এটা শুধু সংখ্যা না—
এটা লাখো পরিবারের খাবার, ভাড়া, চিকিৎসা আর সন্তানের পড়াশোনার প্রশ্ন।
ইউরোপের ২৭টা দেশের সাথে ভারত বাণিজ্য চুক্তি করেছে, আমেরিকাও ভারতের পণ্যে শুল্ক কমিয়েছে। অনেকে এটাকে শুধু আন্তর্জাতিক রাজনীতি ভাবছে, কিন্তু বাস্তবে এটা বাংলাদেশের গার্মেন্টস শিল্পের জন্য সরাসরি হুমকি।
ইউরোপ আর আমেরিকা—এই দুইটা বাজারেই আমাদের রুটি-রুজি। এখন ভারত যদি কম শুল্কে পোশাক পাঠায়, কম দামে দেয়, তাহলে প্রশ্ন একটাই—বাংলাদেশ টিকে থাকবে কীভাবে…?
বড় গ্রুপগুলো হয়তো সামলাবে। কিন্তু ছোট-মাঝারি কারখানা…? সাব-কন্ট্রাক্ট ইউনিট…? সেগুলোর কথা কি কেউ ভাবছে…? অর্ডার কমা মানে শুধু ব্যবসা না—মানে হাজার হাজার শ্রমিকের চাকরি অনিশ্চিত।
এখনো যদি আমরা শুধু “সস্তা শ্রম” নিয়ে গর্ব করি, তাহলে ভুল করছি। বিশ্ব বাজার বদলে গেছে। কম দামে আর টিকে থাকা যাবে না। মান, ডিজাইন, টেকসই উৎপাদন আর নতুন বাজার—এই চারটা ছাড়া ভবিষ্যৎ নেই।
এই বিষয়টা এখনই গুরুত্ব না দিলে, কয়েক বছর পর আফসোস করে লাভ হবে না। গার্মেন্টস কোনো সংখ্যা না—এটা লাখো মানুষের জীবন। বর্তমান পরিস্থিতি চললে সামনে আরও ৫–৬ লক্ষ শ্রমিক বেকার হওয়ার আশঙ্কা অমূলক না।
এটা শুধু গার্মেন্টসের সংকট না। এটা পুরো দেশের অর্থনীতির ডোমিনো ইফেক্ট। পোশাক রপ্তানি কমলে শুধু কারখানা বন্ধ হয় না, একটার পর একটা সবকিছু ভেঙে পড়ে।গার্মেন্টস বন্ধ, শ্রমিক বেকার, বাজারে টাকা নেই। ছোট ব্যবসা মরছে,শ্রমিক না থাকলে মুদি দোকান বন্ধ,খাবার না কিনলে হোটেল,চায়ের দোকান বন্ধ,ভাড়া না দিতে পারলে মেস,বাসা ফাঁকা,যাতায়াত কমলে রিকশা,বাস,লেগুনা বসে যায়।
কারখানার লোন বন্ধ হলে ব্যাংক খেলাপি বাড়ে,SME লোন ডুবে যায়, অর্থনীতি আরও দুর্বল হয় গার্মেন্টস না চললে, টেক্সটাইল,স্পিনিং,ডাইং–প্রিন্টিং,প্যাকেজিং,
শিপিং,C&F,বীমা,স্পেয়ার পার্টস,মেইনটেন্যান্স, ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস,প্রাইভেট চিকিৎসা,সন্তানের পড়াশোনা সব বন্ধ হবে শেষ হয়ে যাবে।বুঝতে হবে একটা কথা গার্মেন্টস বাঁচলে দেশ বাঁচে,গার্মেন্টস ডুবলে শুধু মালিক না পুরো সমাজ ডুবে যাবে।
এখনো যদি আমরা এটাকে “একটা খাতের সমস্যা” ভাবি,তাহলে সামনে যে ধাক্কা আসছে, তার জন্য কেউ কি প্রস্তু…? এটা সবার রুটি-রুজির প্রশ্ন।
লেখক: খাইরুল ইসলাম, গার্মেন্টস কর্মী।
Leave a Reply