বিশেষ সংবাদদাতা:
নিজ দলের মধ্যেই গ্রুপিং সৃষ্টি বর্তমান সময়ে একটি ভাইরাস রূপে জন্ম নিয়েছে বলে মনে করেন বিগজ্ঞ রাজনীতিবিদরা। ঠিক তেমনি কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’তে দলীয় কোন্দল বা গ্রুপিং রূপ ধারণ করেছে চরম পর্যায়ে। এরই ধারাবাহিকতায় দেখা যায় কুষ্টিয়া – ৪ সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল – বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিল বেশ কয়েকজন। তবে এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য প্রার্থী ছিল সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি, কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী ও কুমারখালী উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক। কিন্তু গত ৩ নভেম্বরে সারা বাংলাদেশে প্রাথমিক ভাবে ২৩৭ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর নাম প্রকাশ করে বিএনপি’র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম। এতে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় কুষ্টিয়া-৪ আসন থেকে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমির নাম প্রকাশ পায়। তবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকায় সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি’র নাম প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় এলাকায় কুমারখালীতে বিরাট বিক্ষোভ মিছিল সহ মহাসড়ক অবরোধ করে মনোনয়ন প্রত্যাশী নুরুল ইসলাম আনসার প্রামানিক ও তার নেতাকর্মীরা। তবে এই বিক্ষোভ মিছিল সহ তাদের কর্মকান্ড নিয়ে সে সময় জেলার রাজনীতিতে বিভিন্ন বিতর্কের সৃষ্টি হয় কারণ দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে তারা এ সমস্ত কর্মকাণ্ড ও মহাসড়ক অবরোধ করে সাধারণ জনগণকে ভোগান্তিতে ফেলে। তবে এ বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বিতর্কে সৃষ্টি হলেও কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় এলাকা কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার অধিকাংশ নেতাকর্মীরাই সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি’কে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করাই তারা ক্ষোভে ফুসে ওঠে এবং সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমির প্রার্থিতা বাতিলের জন্য জোর দাবি জানান।

গত ২২ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক ও মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ সাদী বিএনপি”র ৩১ দফার লিফলেট বিতরণের সময় রাজনীতিতে একটি অনন্য দৃষ্টি স্থাপন করে এবং তিনি প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে যে সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি সহ সকল মনোনয়ন প্রত্যাশীদের থেকে তিনি জনপ্রিয়তার শীর্ষে আছে। তার প্রচারণায় প্রায় ৫০ হাজারের অধিক নেতাকর্মীসহ সাধারণ জনগণ উপস্থিত হয়। এতে করে তিনি অন্যান্য রাজনৈতিক দলের বা এই সংসদীয় আসন থেকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী,ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, এনসিপি সহ নির্বাচনে প্রচার-প্রচারণা করা বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীদের বোঝাতে সক্ষম হয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি জনপ্রিয়তার শীর্ষে ও বিএনপি’র হাই কমান্ড সহ দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জনাব তারেক রহমান এর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে সম্ভাব্য প্রার্থী সহ মনোনয়ন প্রত্যাশী সকল প্রার্থীদের থেকে তার জনপ্রিয়তা সবার শীর্ষে। কিন্তু এতে সম্ভাব্য প্রার্থী সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ও তার সমর্থকেরা শেখ সাদী কে প্রতিপক্ষ ভেবে তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন প্রোপাগান্ডা সড়াতে থাকে।

এ আই বা সুপার এডিটর মাধ্যমে শেখ সাদীর পাশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল আলম হানিফের ছবি যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে আপলোড করা হয়। যা সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি’র সমর্থক একসময়ে আওয়ামী লীগের কর্মী রুয়েল নামে এক ব্যক্তির ফেসবুক আইডি থেকে আপলোড করা হয়। এবং সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি’র সমর্থকরা সেই এআই যুক্ত ছবি শেয়ার করতে থাকেন। যা একসময়ে ভাইরাল হয়ে যায় আর এই কর্মকান্ডকে কেন্দ্র করেই জেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে এক নতুন বিতর্ক। এই বিষয়টিকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় বিএনপি’কে কটুক্তি করে কথাবার্তা বলছে। আর এতে করে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে বলছে কুমারখালী উপজেলা বিএনপি নেতা শাকিল হোসেন।

কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী’র পাশে আওয়ামী লীগের যুগ্ন আহবায়ক মাহাবুবুল আলম হানিফের যে ছবি এ আই বা সুপার এডিট এর মাধ্যমে বসানো হয়েছে সে ছবির বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে দেখা যায় এ আই এর মাধ্যমে শেখ সাদীর পাশে মাহাবুল আলম হানিফের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। আর মূল ছবিটি তোলা হয় গত বছরের ৪-ই ডিসেম্বরে খুলনা বিভাগীয় বিএনপি’র একটি অনুষ্ঠানে। এবং শেখ সাদী’র আশপাশে বসে থাকা খুলনা বিভাগের বিভিন্ন জেলার অনেক প্রভাবশালী বিএনপি নেতারা আর তাদের মাঝেই ব্যবহার করে আওয়ামী লীগের বিতর্কিত নেতা মাহবুবুল আলম হানিফের ছবি যুক্ত করা হয়েছে। এতে করে শুধু শেখ সাদী’কেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সম্মানহানি করা হয়নি, সম্মানহানি করা হয়েছে বিভিন্ন প্রবীণ ও বিজ্ঞ বিএনপি’র নেতাদের সহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’কেও এমনটিই বলছে খোকসা উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আলাউদ্দিন খান।

এ আই বা সুপার এডিটের এমন অপব্যবহার, প্রবীণ ও প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করায় বিএনপি’র খুলনা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বাবু জয়ন্ত কুমার কুন্ডু সাংবাদিকদের বলেন, এই সমস্ত নেক্কারজনক কাজ যারা করেছে তারা মোটেই ঠিক কাজ করেনি। কারণ তারা ব্যক্তি স্বার্থ হাসিল করতে গিয়ে দলীয় নেতাদের সম্মান ও বিএনপি’র ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করেছে। এদের বিরুদ্ধে অবশ্যই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
এ ঘটনায় কুষ্টিয়া-৪ সংসদীয় আসন কুমারখালী ও খোকসা উপজেলার বিভিন্ন নেতাকর্মীরা তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। খোকসা উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আবু হেনা মোস্তফা সালাম লুলু সাংবাদিকদের বলেন, এটি একটি নোংরামি রাজনীতি যা আমরা কখনোই আশা করিনি। দীর্ঘ ১৬ বছর বিভিন্ন আন্দোলন-সংগ্রাম রাজপথে করেছি এবং বিভিন্ন সময়ে মামলা হামলার শিকার হয়েছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি আজ এ সময় এসে দলের মানুষই দলের ক্ষতি করবে। সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি নিজের স্বার্থ হাসিলের জন্য আজ দলকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। তার এমন নেক্কারজনক কর্মকাণ্ডের বিচার হওয়া দরকার তা না হলে দলের বিরুদ্ধে এমন ষড়যন্ত্র প্রতিনিয়তই চলতে থাকবে যা এক সময় ভয়াবহ আকার ধারণ করবে। জননেতা শেখ সাদী’র পথসভায় প্রায় ৫০ হাজার এরও বেশি নেতাকর্মীর সহ সাধারণ জনগণের উপস্থিত দেখে বা জননেতা শেখ সাদী’র জনপ্রিয়তা উপলব্ধি করতে পেরে এমন নোংরা রাজনীতিতে মেতেছে সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি ও তার সমর্থকেরা। আমরা খোকসা উপজেলা যুবদল সহ তৃণমূলের বিএনপি নেতাকর্মীদের পক্ষে এই নোংরামির বিচার চাই।

এ বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলা বিএনপি’র যুগ্ন আহবায়ক শেখ সাদী বলেন, আমাদের একজন মুরব্বি বা অভিভাবক সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি। তিনি মনোনয়ন পেয়েছে আমি সাধুবাদ জানাই। কিন্তু তিনি আমাকে প্রতিপক্ষ ভেবে আজ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি’কে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। আমি এ বিষয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না শুধু এতোটুকুই বলবো শ্রদ্ধেয় বড় ভাই সৈয়দ মেহেদী আহমেদ রুমি’র কাছ থেকে আমরা এটি কখনোই আশা করিনি।
Leave a Reply